টেকনাফে ৬ সাংবাদিকের উপর হামলা

একবছরেও গ্রেপ্তার হলো না সাংবাদিক হামলার নেতৃত্বে থাকা ভূট্টো

coxsbazarvision.com

coxsbazarvision.com

কক্সবাজার থেকে টেকনাফে পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে ৬ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসি হামলার এক বছর পার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মামলার প্রধান আসামি নুরুল হক ওরফে ভুট্টোসহ তার অন্য সহযোগীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখনও ভূট্টো ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
২০১৬ সালের ১৩ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি তৌফিকুল ইসলাম লিপু, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সুজা উদ্দিন রুবেল, একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম মিন্টুসহ ছয় সাংবাদিককে ভুট্টোর নেতৃত্বে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওই সময় একটি মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, ল্যাপটপ ভাংচুর ও লুট করা হয়।
এই ঘটনার পর তৌফিকুল ইসলাম লিপু বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভূট্টোকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
টেকনাফে হামলার কয়েকদিন পর কক্সবাজার শহরে পৌরসভা গেইটের সামনে মামলার বাদী লিপু ও আহত রুবেলের উপর পুণরায় ভূট্টোর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। সেই সময় তাদের অপহরণের চেষ্টা করে সন্ত্রাসিরা।
এই ঘটনায় সুজা উদ্দিন রুবেল বাদি হয়ে ভূট্টোকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে দুইটি মামলাই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সন্ত্রাসি ভূট্টোর বিরুদ্ধে ইয়াবা, মানব পাচারসহ একাধিক মামলা থাকলেও কোন মামলায় এখনও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না, এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের।
টেকনাফ এলাকার লোকজন জানান, মাসোহারার বিনিময়ে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে নাজির পাড়ার এজাহার মিয়ার ছেলে নুরুল হক ভূট্টোসহ অন্য অপরাধীরা।
স্থানীয় প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা ভূট্টো টেকনাফ নাজিরপাড়াসহ থানার আশপাশে প্রকাশ্যে ঘুরছে এবং নিয়মিত ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নুরুল হক ভূট্টোর নেতৃত্বে একটি বিশেষ বাহিনী প্রতিনিয়তই এলাকায় নিরীহ মানুষদের উপর হামলা চালাচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরুল হক ভূট্টোর বিরুদ্ধে টেকনাফ এবং কক্সবাজার মডেল থানায় একাধিক মামলা এবং ১০টিরও বেশি সাধারণ ডাইরি করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। ভূট্টোর সঙ্গে তার বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আপন ভাই নুর মোহাম্মদ মংরী, নুরুল আমিন খোকন, নুরুল ইসলাম নুুরু এবং তার ভাগিনা একই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে হেলাল, বেলাল, আবছার ও মো. হোছন। তাদের বিরুদ্ধেও টেকনাফ থানায় ইয়াবা ব্যবসা এবং মানবপাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে হামলার এক বছর পার হলেও মামলার প্রধান আসামি ভূট্টো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারি ভূট্টোকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এড. আয়াছুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
তবে এই সাংবাদিক নেতা হামলার মূল হোতা ভূট্টোকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
মামলার বাদী তৌফিকুল ইসলাম লিপু জানান, শুরু থেকে পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। ভূট্টো এবং তার সহযোগীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে, অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। তিনি বলেন, ‘এটি অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয়ার শামিল বলেই আমি মনে করি।’
অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফ থানায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদের সঙ্গে বেশ সখ্যতা ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসি নুরুল ইসলাম ওরফে ভূট্টোর। তবে বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমকে বেশ কয়েকবার অস্বীকারও করেছিলেন।
এদিকে ভূট্টোকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সাংবাদিক হামলার মামলাটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ভূট্টোকে ধরতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।’
তাকে যে কোন মূল্যে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।