চেহারা পরিবর্তন করে গোপনে ভারতে পালাতে চেয়েছিল সাফাত-সাদমান

চেহারা পরিবর্তন করে গোপনে ভারতে পালাতে চেয়েছিল সাফাত-সাদমান

চেহারা পরিবর্তন করে গোপনে ভারতে পালাতে চেয়েছিল সাফাত-সাদমান

বহুল আলোচিত রাজধানীর বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ রশীদ ভিলা থেকে তাদেরকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর আগে ঢাকা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি গোয়েন্দা দল সিলেটে গিয়ে অবস্থান নিয়ে এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। কিন্তু আসামিরা নিজেদের স্বাভাবিক চেহারা পাল্টিয়ে আত্মগোপন করে এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে কিছুটা হিমসিম খেতে পুলিশকে।

অবশেষে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ রশীদ ভিলা ঘেরাও করে ফেলে ঢাকা ও সিলেটের গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদেরকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, আসামিরা এতটাই চালাক যে তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তন করেছে। এমন কী তাদের আগেকার চেহারাও বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করে ফেলেছে। যেমন গোপ-দাড়ি ও মাথার চুল কেটে মুখে নতুন উন্নতমানের কসমেটিক আবরণ মেখে ভিন্ন রূপ ধারণ করে ফেলেছে। তাদেরকে দেখে চেনা খুবই দুরূহ। তবে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পেরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো জানান, আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ স্বীকার করেছে যে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পলায়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল। এ জন্য তারা সার্বিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সুযোগের অভাবে তারা যেতে পারেনি।

এদিকে আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হকও নিশ্চিত করেছেন।

মামলার ছায়া তদন্তকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিরা একসঙ্গে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও পরে কৌশল বদলে ফেলে। তারা দুই তিনভাগে ভাগ হয়ে পৃথক পৃথক জায়গায় আত্মগোপন করেছিলো। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান আমরা নিশ্চিত হতে পারি।’