সাফাতকে নিয়ে মডেল ফারিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সাফাতকে নিয়ে মডেল ফারিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সাফাতকে নিয়ে মডেল ফারিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ধর্ষক সাফাতের বাবা নিজের ছেলেকে বাঁচাতে নয় বরং নিজের ইমেজ ও ব্যবসা ঠিক রাখতে ধর্ষণের মামলাটি প্রভাবিত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বনানীতে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী সাফাতের স্ত্রী মডেল ফারিয়া পিয়াসা।

তিনি একই সঙ্গে মডেল, অভিনেত্রী ও এশিয়ান টিভির সাবেক পরিচালক। তবে, সাফাতের বাবার দাবি, পিয়াসাকে তার ছেলে আগেই ডিভোর্স দিয়েছে।

মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে জড়াচ্ছেন উল্লেখ করে পিয়াসা বলেন, সাফাতের বাবা নিজের ইমেজ ঠিক রাখতে ধর্ষণের মামলাটি প্রভাবিত করছেন। কেউ না জানুক, আমি জানি সাফাতের বাবা কতটা পুত্রপ্রিয় মানুষ। তিনি এমনই একজন বাবা যিনি নিজের গাড়িটা একদিন খুঁজে না পেয়ে পুত্রের নামে থানায় জিডি করেছিলেন। ছেলেও বাবার নামে কয়েক বছর আগে কী একটা ঝামেলায় ভাটারা থানায় মামলা করেছিল।

তাদের অর্থের বড়াই ছাড়া আর কিছুই নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন ছেলের নামে ধর্ষণের মামলা হওয়ায় নিজের প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হবে ভেবেই ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাকে নিয়ে নাটক সাজাচ্ছেন।

তাদের এসব মিথ্যা অপবাদ মেনে নেয়া যায় না উল্লেখ করে পিয়াসা বলেন, ধর্ষণের এক সপ্তাহ পর সাফাতকে নিয়ে মডেল ফারিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য!দুই মেয়ে আমাকে কল দিয়ে কান্নাকাটি করে জানায় যে, আমার স্বামী সাফাত বন্ধুদের নিয়ে তাদের ধর্ষণ করেছে। এর আগে আমার নামে বাজে বাজে সব কথা বলে ওদের মন গলানোর চেষ্টা করে সাফাত।

তিনি বলেন, কাঁদতে কাঁদতে দাম্পত্য জীবনে সে (সাফাত) আমার জন্য সুখী নয় বলে গল্প শোনাতে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন। আমিই ওকে নিয়ে সুখী হতে পারছিলাম না। ওকে শোধরানোর চেষ্টা করেছি, পারিনি। কিন্তু পাপ তাকে গ্রাস করে নিল।

 

পিয়াসা বলেন, আমি এও শুনেছি এক পার্টিতে একজন মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে অপমানিত হয়েছিল সাফাতের বাবা। ওই মহিলা উনাকে স্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করেছিলেন। আমি তার ছেলের বউ! আমার সঙ্গে তার ব্যবহার, কথাবার্তা শুনলে যে কেউ লজ্জায় মরে যাবে।

সাফাতের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে পিয়াসা বলেন, সাফাতের সঙ্গে আমার চার বছরের সম্পর্ক। দুই বছর প্রেম করার পর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি তাকে আমি বিয়ে করি। আমাকে অনেকেই অনেকবার বলেছে ওর সঙ্গে না জড়াতে। আমি শুনিনি। আমাকে বারবার বলা হয়েছে সাফাত মানুষ ভালো নয়। ওর বাবাও প্রচণ্ড আত্মঅহঙ্কারী, চরিত্রহীন একজন মানুষ। ওর পরিবারের অর্থ-বিত্ত থাকলেও মানমর্যাদা বলতে কিছু নেই।

পিয়াসা বলেন, সাফাতের বাবা মেয়েগুলোকে (ভিকটিম) খারাপ বলার চেষ্টা করছে। ওরা খারাপ হলে তো টাকা নিয়ে চুপ থাকত। ঘটনার পর ওদের এক মাস থ্রেট করা হয়েছে, যেন তারা ওদের সঙ্গে আবারও হোটেলে যায়, তা না হলে ভিডিও ছেড়ে দেবে। সাফাত আমার লাইফ ধ্বংস করেছে বিয়ে করে। আর ওদের দুইজনের লাইফ ধ্বংস করেছে বিয়ে না করে।

জানা গেছে, সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়ে গুলশানের ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলে গিয়ে ঢাকার দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে গত ৬ মে মামলা হয় ঢাকার বনানী থানায়।

সাফাতকে নিয়ে মডেল ফারিয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য!

এজাহারে সাফাত ছাড়াও এক ঠিকাদারের ছেলে নাঈম আশরাফ (৩০), পিকাসো রেস্তরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ (২৪) এবং সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালককে আসামি করা হয়।

দুই ছাত্রীর অভিযোগ, ওই হোটেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাতভর আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম তাদের ধর্ষণ করেন। অন্য তিনজন তাতে সহায়তা করেন।