‘বলতে পারেন থানায় মামলা করতে গিয়ে আমরা ফের ধর্ষণের শিকার হয়েছি’

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে জিম্মি করে গণধর্ষণ, জেশজুড়ে তোলপাড়

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে জিম্মি করে গণধর্ষণ, জেশজুড়ে তোলপাড়

রাজধানীর বনানীর রেইনটি হোটেলে ধর্ষণের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর মধ্যে একজন বলেন, ‘বলতে পারেন থানায় মামলা করতে গিয়ে আমরা পুলিশের হাতে ফের ধর্ষণের শিকার হয়েছি।’

এভাবেই বনানী থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণের বর্ণনা দেন ধর্ষিতা ছাত্রী।

ওই দুই ছাত্রী বলেন, এতদিন আমরা পুলিশের নেতিবাচক আচরণ সম্পর্কে লোকমুখে শুনতাম এবার আমরা নিজেরাই শিকার। তারা বলেন, ধর্ষকদের অব্যাহত হুমকির মুখে বনানী থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েও আমরা হেনস্থার শিকার হয়েছি।

থানার ওসি (বিএম ফরমান আলী) অযথায় আমাদের ৩ দিন ঘুরিয়েছেন। ধর্ষণের অভিযোগ তিনি নিতে রাজি হননি। আমরা প্রতিদিন সকালে থানায় যেতাম। ডিউটি অফিসারের সামনে ঘণ্টাখানেক বসে থাকার পর ওসির রুমে আমাদের ডাক পড়ত। ওসি একা দরজা লাগিয়ে তার কক্ষে বসে আমাদের মুখে ধর্ষণের বর্ণনা শোনেন। ঘটনার বিষয়ে বারবার একই প্রশ্ন করেন। ‘কিভাবে হল’, ‘কেমন করে হল’ এসব অশ্লীল প্রশ্ন করেন তিনি।

আব্দুল মতিন নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা প্রতিবাদ করনি কেন? হোটেলে গিয়েছিলে কেন। এর আগে এভাবে কোন কোন হোটেলে গিয়েছিলাম- এ রকম অবান্তর প্রশ্ন করেন তিনি। পুলিশের এসব প্রশ্ন শুনে আমরা লজ্জা ছাড়াও আরেক দফা ধর্ষণের মতো পরিস্থিতির শিকার হয়েছি।

আমরা অনেক কিছু খোলামেলা বলতে না চাইলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ধর্ষণের মামলা করতে হলে সব খুলে বলতে হবে। একপর্যায়ে সব শুনে ওসি আমাদের বলেন, ‘তোমরা তো খারাপ মেয়ে। বড় লোকের ছেলেকে ফাঁসাতে ধর্ষণের মামলা করতে চাইছ।’

ধর্ষিত ছাত্রী বলেন, ‘একজন পুলিশ কর্মকর্তা কতটা নির্লজ্জ হতে পারেন আমরা দেখেছি’ তিনি বলেন, ‘থানা পুলিশের ভাবটা এমন ছিল যে, আমরা খারাপ মেয়ে, হোটেলে গিয়ে ধর্ষিত হয়েছি তাতে এমন কি ক্ষতি হয়েছে। আর আমরা যেহেতু খারাপ মেয়ে তাই আমাদের এখন পুলিশকেও খুশি করতে হবে। অথচ আমরা যথাসাধ্য প্রমাণ নিয়ে থানায় গেছি।’

এক পর্যায়ে ধর্ষিত দুই ছাত্রীর একজন বলেন, ‘বলতে পারেন থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে আমরা পুলিশের হাতে ফের ধর্ষণের শিকার হয়েছি।’

তারা বলেন, ‘আমাদের মতো যাতে আর কোনো ধর্ষিতকে থানায় গিয়ে এমন নির্যাতনের শিকার না হতে হয় সেই বিচারও চাই।অন্যথা এ সমাজের নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হবে না।’