প্রধান বিচারপতিকে দন্ড ঘোষণাকারি বিচারপতি কারনানকে ৬ মাসের কারাদন্ড

প্রধান বিচারপতিকে দন্ড ঘোষণাকারি বিচারপতি কারনানকে ৬ মাসের কারাদন্ড

প্রধান বিচারপতিকে দন্ড ঘোষণাকারি বিচারপতি কারনানকে ৬ মাসের কারাদন্ড

ভারতের কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সাত সদস্যের একটি বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক সি এস কারনানকে ওই সাজা শুনিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মহা নির্দেশককে আদেশ দেওয়া হয়েছে মি. কারনানকে গ্রেপ্তার করার জন্য।

বিচারপতি কারনান সুপ্রিম কোর্ট সহ বিভিন্ন আদালতের ২০ জন বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

তারপরেই তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। একাধিকবার মি. কারনানকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আগেই জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

মঙ্গলবারের এই সাজা ঘোষণার আগের দিন সোমবার মি. কারনান এক অভূতপূর্ব সাজা ঘোষণা করেন।

তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর সহ সুপ্রিম কোর্টের আটজন বিচারকের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেন, সঙ্গে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা। তাঁদের পাসপোর্টও জমা রাখতে বলা হয়েছে দিল্লির পুলিশ কমিশনারের কাছে।

তবে বিচারপতি কারনানের কাছ থেকে সব ধরনের বিচারিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা আগেই কেড়ে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তাই এই ‘সাজা’র কোনও আইনি বৈধতা নেই।

কলকাতায় নিজের সরকারী বাসভবনে একটি ‘কোর্ট’ বসিয়ে এই সাজা ঘোষণা করেছেন তিনি।

তপশীলি জাতি উপজাতিদের ওপরে নির্মমতা রোধী একটি আইনের ধারা অনুযায়ী তিনি এই ‘সাজা’ দিয়েছেন।

উল্টে বিচারপতি কারনান ওই বেঞ্চের সদস্যদেরই নিজের বাসভবনে বসানো ‘কোর্টে’ হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, জারি করেছিলেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।

মি. কারনানের একের পর এক ‘নির্দেশ’ জারি করা দেখে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরকে।

ওই আদেশের পরপরই বিচারপতি কারনান ওই বেঞ্চের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ‘আদেশ’ জারি করেছিলেন।

কলকাতায় সরকারী মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা গত সপ্তাহে তাঁর বাসভবনে পৌঁছলে মি. কারনান জানিয়েছিলেন যে আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গেলে সেই ব্যক্তির অভিভাবকের উপস্থিতি প্রয়োজন। তাঁর একজন অভিভাবক – স্ত্রী চেন্নাইতে থাকেন, অন্য অভিভাবক – পুত্র বিদেশে থাকে। সে কারণেই চিকিৎসকদের পরীক্ষা না করতে দিয়েই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

মি. কারনানকে ম্যাড্রাস হাইকোর্ট থেকে যখন সুপ্রিম কোর্ট কলকাতায় বদলি করে দিয়েছিল, তিনি নিজেই সেই আদেশের ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করে দিয়েছিলেন।

প্রধান বিচারপতিকে দন্ড ঘোষণাকারি বিচারপতি কারনানকে ৬ মাসের কারাদন্ড

ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর

সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ বা সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বীকার করছেন যে ভারতের আইনি ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন, যেখানে এক বিচারক তাঁর ঊর্ধ্বতন এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের জেলের সাজা শোনাচ্ছেন অথবা গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করছেন।

এই ঘটনাও নজিরবিহীন, যেখানে একজন কর্মরত (যদিও তাঁর বিচারিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতা আর নেই) বিচারপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হচ্ছে বা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আর মঙ্গলবার আরেকটি নজির তৈরি হল যেখানে একজন হাইকোর্টের বিচারপতিকে আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে কারাবাসের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত।