গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধা​রণের সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়টি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। বিইআরসি, বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও ​বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

গ্যাসের নতুন ​মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সোমবার রিটটি করেন। বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সাইফুল আলম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাট​র্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

হঠাৎ গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়েছে। বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার।

এদিকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১৫ মার্চ জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে সিপিবি, বাসদ ও বাম মোর্চা। হরতাল শেষে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে অর্ধদিবস হরতাল পালন করে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। এসময় হরতাল সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ, রাবারবুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলসহ (বাসদ) এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকা এই হরতালে সমর্থন দেয় বিএনপি।

প্রসঙ্গত, ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দুই ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী প্রথম দফায় আগামী ১ মার্চ ও দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে দাম বাড়ার কথা।

বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী আগামী মাস থেকে আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলার জন্য ৭৫০ (বর্তমানে ৬০০) ও দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা (বর্তমানে ৬৫০) বিল দিতে হবে। আর আগামী জুন মাস থেকে এক চুলার জন্য ৯০০ ও দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা বিল দিতে হবে। যেসব আবাসিক গ্রাহকের মিটার আছে, আগামী মাস থেকে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং জুন মাস থেকে ১১ টাকা ২০ পয়সা ধার্য করা হয়েছে।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!