সিনহার পিস্তল থেকে কোন গুলি ছোঁড়া হয়নি, আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা

সিনহার পিস্তল থেকে কোন গুলি ছোঁড়া হয়নি, আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা

জি এ এম আশেক উল্লাহ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, র‌্যাব-১৫ এর সাবেক সহকারি পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি আমি জব্দ করেছি এবং ম্যাগাজিনে ৯টি গুলি ছিল। আমি তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি যে, সিনহার পিস্তল থেকে ঘটনাস্থলে কোন গুলি ছোঁড়া হয়নি।’

সিনহা হত্যার প্রধান আসামী লিয়াকত আলীর পক্ষে অ্যাডভোকেট চন্দন দাশের প্রশ্নের জবাবে এই তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ওই ম্যাগাজিনে ১০টি গুলি রাখার ধারণ ক্ষমতা সম্পর্কে তাঁর জানা নেই।’

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশপ্রাপ্ত হয়ে একটি হত্যা মামলার তদন্ত করেছি। সিনহার পিস্তল ও গুলি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য আমি পাঠানো প্রয়োজনবোধ করিনি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং আগ্নেয়াস্ত্র বিধিমালা ২০১৬ এর ২৪ বিধির বিধান মতে লাইসেন্সধারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করার বিষয়টিও আমার জানা আছে। তবে মেজর সিনহা অস্ত্র বহনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করেছেন কিনা তদন্ত করে দেখিনি।’

বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুরের এক ঘন্টার বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে একে একে জেরা করেন। আদালতের দিনের কর্ম ঘন্টা শেষ হয়ে যাওয়ায় বহিস্কৃত ওসি প্রদীপের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা সম্ভব হয়নি।

আগামি ২৯, ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন মামলার বিচারক কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।

জেরার জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, ‘রিমান্ডে লিয়াকত আলীকে বিবস্ত্র করা, খাদ্য না দেয়া কিংবা কোন ধরণের নির্যাতন করা হয়নি।’

লিয়াকতের গুলিতেই সিনহা নিহত হন এবং এই হত্যার দায় তিনি স্বীকার করে স্বতস্ফুর্ত ভাবেই স্বীকারোক্তি দেন।

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় ওসি প্রদীপসহ মামলার ১৫ আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। হত্যার পাঁচদিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকান্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!