‘শিষ্য’ সন্তোষ আতঙ্কে ‘গুরু’ বাবুল আক্তার!

‘শিষ্য’ সন্তোষ আতঙ্কে ‘গুরু’ বাবুল আক্তার!

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

চট্টগ্রামে বহু ক্লুলেস মামলা সফলভাবে সমাধান করার কৃতিত্ব রয়েছে ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার চাকমার। ভয়ংকর অপরাধী ও জঙ্গি গ্রেপ্তারেও এগিয়ে চৌকস এই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রায় আড়াই বছর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে থাকা চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা তদন্তের গতি শ্লথ থাকলেও পিবিআইর সন্তোষের কাছে আসার পর থেকেই এর মোড় ঘুরতে থাকে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাদী থেকে আসামি হওয়ার পর গ্রেপ্তারও হন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।

এমন প্রেক্ষাপটে মিতু হত্যা মামলাটি পিবিআই এবং সন্তোষের দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন বাবুল আক্তার।

প্রসঙ্গত, বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগে পদায়ন পাওয়ার পর এখানে তার অধীনে এসআই হিসেবে সন্তোষ চাকমা কাজ করতেন। খুব অল্প সময়েই সাহসী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সন্তোষের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তাদের দু’জনকে ‘গুরু’-‘শিষ্য’ হিসেবে অভিহিত করতেন।

এদিকে গত ১৭ নভেম্বর পিবিআইর হাতে থাকা মামলার সিডির একটি অনুলিপি জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন করেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত পিবিআইর হাতে আসার পর আমাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তারপর তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাদী বাবুল আক্তারকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করি। রিমান্ডে তিনিও মিতু হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আসামি ভোলা তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, বাবুল আক্তার এই হত্যার মাস্টারমাইন্ড। তদন্ত সুচারুভাবে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু আসামি বাবুল আক্তার পিবিআই ও আমার কাছ থেকে মামলার তদন্ত সরিয়ে নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আদালতে একের পর এক আবেদনও করেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিতু হত্যা মামলা শুধু চট্টগ্রাম নয়; সারাদেশের একটি আলোচিত মামলা। এ মামলায় বাদী-আসামিপক্ষ সব সময়ই চাইবে আইনের সুবিধা নিতে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত সঠিক দায়িত্ব পালন করলে তদন্ত সংস্থা এই মামলার তদন্ত সঠিকভাবে শেষ করতে পারবে।

সার্বিক বিষয়ের ওপর নজর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থাকে চাপে রাখতে অনেক সময় আসামিপক্ষ কারণে-অকারণে আদালতে আবেদন-নিবেদন করে থাকে। এটা সবাই বোঝে।

আসামি বাবুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, মিতু হত্যা মামলায় বাবুলকে ফাঁসানো হয়েছে। পিবিআইর ওপর আমাদের আস্থা নেই। পিবিআইর মামলার কেস ডকেট (সিডি) থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি ঘষামাজা, টেম্পারিং অথবা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কেস ডকেটের অনুলিপি জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার আবেদন করলে আদালত ১৭ নভেম্বর সিডির একটি অনুলিপি জুডিশিয়াল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা পিবিআই ও সন্তোষ চাকমা ছাড়া অন্য যে কোনো সংস্থাকে দিয়ে মামলার তদন্ত চাইছি। আদালতে বেশ কয়েকবার এসব বিষয়ে আবেদনও করা হয়েছে।

চার বছর আগে নগরীর জিইসি মোড়ে মিতু খুন হওয়ার সংবাদ পেয়ে অন্যদের মতো সেদিন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের চট্টগ্রাম শহরের বাসায় ছুটে গিয়েছিলেন ইন্সপেক্টর সন্তোষ চাকমাও। তাকে সেদিন সান্ত্বনাও দিয়েছিলেন তিনি। চার বছরের মাথায় তদন্তভার হাতে আসার পর সান্ত্বনা দেয়া সেই ব্যক্তিকেই গ্রেপ্তার করতে হবে- ভাবনাতেও ছিল না চৌকস কর্মকর্তা সন্তোষের।

২০১৫ সালে বায়েজিদে ল্যাংটা ফকিরকে কুপিয়ে খুন, সদরঘাট এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে ব্যবসায়ীকে বোমা মেরে হত্যা, খোয়াজনগরে জেএমবি আস্তানায় অভিযান, আমানবাজার জেএমবির আস্তানা থেকে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল উদ্ধারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে বাবুলের সঙ্গে ছিলেন সন্তোষ চাকমা। এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনার অধিকাংশ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সন্তোষ। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিটও দিয়েছেন তিনি।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।
সুত্র : সমকাল

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!