শত প্রতিকূল মাঝেও হাসান-আঁখি জুটির ভালোবাসা যেন আলো ছড়াচ্ছে

ফারুক ইকবাল, মহেশখালী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

জীবন ও ভালোবাসার সংগ্রামে জয়ী শিক্ষার্থী দম্পতির প্রথম সন্তান আকসাকে দেখেই বুঝা যাবে না তার মা-বাবা দুজনই এখনও শিক্ষার্থী। ৩ বছরের আকসার নখে নীল পালিশ আর ঠোঁটের লাল লিপস্টিক লাগিয়ে মা-বাবা দুজনের অপলক চেয়ে থাকা দেখলে বুঝা যাবে না তারা এই সন্তানেরই মা-বাবা। দীর্ঘদিন প্রেমের শেষে ২০১৭ সালে পরিণয়ে আবদ্ধ হয় হাসান-আখি। অনার্স পড়ার সময় পরিবারের সম্মতিতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেনি কেউ। পরিবারের সবার মধ্যমণি হয়ে যাপিত জীবন আনন্দের বন্যা নিয়ে এসেছে তাদের একমাত্র সন্তান আকসা। পড়াশোনা আর সংসার এই দুয়ে ব্যস্ত প্রেমিক দম্পতির সুখের সংসার যেন অনুপ্রেরণা হাজার হাজার পড়ুয়া প্রেমিক জুটির।

দীর্ঘদিন মন দেয়া নেয়ায় ব্যস্ত থাকা দুজনের বাড়ি মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা ও থানা পরিষদ এলাকায়। আবার দু’জন আইন বিষয়ের শিক্ষার্থী। এই দম্পতির একজন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিষয়ের ছাত্র, অন্যজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের ছাত্রী।

বলা হয়ে থাকে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। এই বিশেষণটি যেন তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সমাজের ধরাবাঁধা নিয়ম ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়া যতটা কঠিন, ঠিক ততটা কঠিন সংসার সামলানো। কিন্তু আইন বিষয়ে পড়াশোনায় মগ্ন এই দম্পতি সমাজের প্রথা ভেঙে সহজ সমাধানে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারে মনযোগী। দুই পরিবারের মেলবন্ধনে এক জটিল সমীকরণে আবদ্ধ করেছে তারা।

আইন বিষয়ে সদ্য মাস্টার্স শেষ করা কামরুল হাসানের সহজ সরল স্বীকারোক্তি- আঁখিকে দেখার পরই প্রেমে পড়েছিলাম। সেও সম্মতি দেয়ায় দীর্ঘদিন একসাথে প্রেম করেছি। পরে পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে। কখনো ভাবিনি ছাত্র অবস্থায় বিয়ে করব।

তিনি বলেন, বিয়ের পর আমাদের সম্পর্ক আরো মধুর হয়। সমীকরণ যেন সহজে মিলে গেল। আমাদের দুই পরিবারের সাপোর্ট ও সম্মতিতেই আমাদের ছোট্ট সংসার চলছে। প্রথম প্রথম পরিবার ও সমাজের শত বাধা পেরিয়ে সংসারী হওয়া কম সংগ্রামের বিষয় নয়। আমাদের চাওয়া পাওয়াকে মূল্যায়ন করায় আমরা দুই পরিবারের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।

তার অভিব্যক্তি হলো, পড়াশোনা শেষ হল, সংসার হল, সন্তানও হল, অপূর্ণতা কিছুই নেই। এবার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করব।

প্রেমিক দম্পতির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী আঁখির হাসিমাখা মুখ দেখলে বুঝা যাবে না সে একজন পুরোদস্তুর সংসারী মেয়ে। স্বামী, সন্তানসহ পরিবার সামলে নিয়ে নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে অর্জনের খাতা ভারি করেই যাচ্ছে। মেয়ের জন্য এক বছর পরীক্ষা দিতে পারেনি, কিন্তু সেজন্য তার কোন আক্ষেপ নেই। মেয়ের সারাক্ষণ দুষ্টমি, আদর, শাসনসহ সবকিছু অনায়াসেই সেরে নিচ্ছে। বাড়িতে মেহমান যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বন্ধু, বান্ধব, পরিবার, এলাকার মানুষদের মেহমানদারীতেও অন্যন্য এই দম্পতি। সেটাও সামলে নেয় খুব যত্ন সহকারে।

আঁখিরও একই উত্তর- ভালোবাসার শেষ পরিণয় সংসারে আগে থেকে যুক্ত হয়ে মনে হচ্ছে সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে করেছি। সংসার, পড়াশোনা করতে একটু কষ্ট হয়, কিন্তু কোন সমস্যা নয়। পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করব। পরিবারের সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

তিনি বলেন, অনেক পরিবার মনে করে ছাত্র অবস্থায় বিয়ে করলে হয়ত আর আগানো যাবে না, কিন্তু সেটা শতভাগ সঠিক নয়। দুই পরিবারের আগ্রহ, অনুপ্রেরণা থাকলে স্বামী-স্ত্রী মিলে সুন্দর একটি ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। আপাতত দুজনেই পড়াশোনায় মনযোগ দিচ্ছি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!