রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসনে ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন

রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসনে ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

প্রথমত, দ্রুত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, ক্যাম্পে মোবাইল টাউয়ার অপসারণ ও সম্পূর্ণরূপে নেটওয়ার্ক বন্ধ করা, দ্বিতীয়ত; দেশি-বিদেশি এনজিওদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও রোহিঙ্গাদের অপরাধের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা, তৃতীয়ত; রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকরণ, বন্ধ থাকা জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম খুলে দেয়া এবং চতুর্থত; স্থানীয়দের মাঝে মিশে থাকা নতুন-পুরাতন রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করে নির্দিষ্ট স্থানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিশ্চিত করা ও এনজিওদের প্রকল্প থেকে স্থানীয়দের জন্য ২৫% বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, এই চারটি দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে সকাল ১১টার দিকে এই পথসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির সমন্বয়ক কলিম উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিভিল সোসাইটিজ ফোরাম কক্সবাজার সভাপতি সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড সমির পাল, দৈনিক সমুদ্র কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক মঈনুল হাসান পলাশ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন, আওয়ামী লীগ নেতা কামালউদ্দিন রহমান পিয়ারো, কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আক্তার পাখি, জেলা যুবলীগ নেতা মাহবুবুল আলম মাহবুব, ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সমন্বয়ক দৈনিক সকালের কক্সবাজারের নির্বাহী সম্পাদক মহসিন শেখ, সমন্বয়ক দৈনিক আপন কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক এইচ,এম নজরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক কল্লোল দে চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল সাজ্জাদ, পরিবেশ সংগঠক আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা ছাত্রদল নেতা জাহেদুল ইসলাম রিটন।

ওই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন জেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আসমা উল হুসনা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মম আহমেদ, কক্সবাজার পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর জাহেদা আক্তার, পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন সমন্বয়ক আব্দুল আলিম নোবেল, মনথেøলা রাখাইন, কামাল উদ্দিন, ছাত্রনেতা বেলাল উদ্দিন, সাইকেল ক্লাব৭১’র সভাপতি হাবিবুর রহমান সোহেল, এসএম বাবর, রুহুল কাদের মানিক, যুবনেতা এনামুল কবির, ছাত্রনেতা আনছার হোসেন প্রমূখ।

রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসনে ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন

পথসভা ও মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন হুমকি হয়ে উঠেছে। উগ্রপন্থী আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীরা রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে নানা অপকর্ম এবং সন্ত্রাসি কার্যকলাপে লিপ্ত করাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরে অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির এলাকায় পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক সমস্যা।

নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পর থেকে আমরা সন্দেহ করছিলাম, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিলতার দিকে যাবে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হচ্ছে বারবার। এর প্রধান কারণ মিয়ানমারের জুড়ে দেয়া শর্তে রোহিঙ্গাদের অবিশ্বাস ও সন্দেহ। পাশাপাশি ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার নেপথ্য ভূমিকা রাখছে। মানবিক দিক বিবেচনার অজুহাতে তারা নিজ স্বার্থে উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কেউ অনুধাবনের চেষ্টা করছে না। যারা এসব দেখার কথা সে সকল আমলা আর কিছু সুবিধাবাদী মিলে হোস্ট কমিউনিটির ২৫% ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি এনজিওগুলো কিছু প্রভাবশালীকে কিনে নেয়ায় মুখ খুলছে না সাধারণ মানুষ।

তাদের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন। দুই বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। আর কিছুদিন হয়তো দেখব। এরপর অচিরেই সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে প্রত্যাবাসনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নেতারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা আর এনজিও কারা নিয়ন্ত্রণ করে তার কোন হিসেব নেই প্রশাসনের। ব্যর্থতা আর গোয়েন্দা নজরদারীর অভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মায়ানমার সরকার নিয়ন্ত্রিত এনজিও সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া হোস্ট কমিউনিটির নামে দেশিয় অস্ত্র তৈরি করে এনজিও সংস্থা গুলো সেসব অবৈধ অস্ত্র রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় মানববন্ধন থেকে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে মানবিকতা বলতে কিছু নেই। তারা খুন থেকে শুরু করে একের পর এক জমি দখল করছে। অথচ স্থানীয়রা এসব অসহায়ের মতো দেখা ছাড়া কিছু করতে পারছে না। কেউ কিছু বলতে গেলেই প্রশাসনের রোষানলে পড়তে হয়। ফলে স্থানীয় সবার মাঝে চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বড় আন্দোলনের সৃষ্টি হতে পারে।

তাদের মতে, বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এখানে আসার পরে জুন মাস পর্যন্ত ৬০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয়রা হবে সংখ্যালঘু।

দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। একই সাথে পুরাতন রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের অভিযান জোরদার কারার দাবি জানান বক্তারা।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!