রামুর কলেজছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’ ও ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দিল চকরিয়ার মাহিন, অবশেষে ধরা

রামুর কলেজছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’ ও ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দিল চকরিয়ার মাহিন, অবশেষে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের কাছের উপজেলা রামুর এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধর্ষণ এবং অশ্লীল ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে চকরিয়ার মাহিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধৃত তাহমিদ খান মাহিন চকরিয়া উপজেলার লইক্ষ্যারচর শিকলঘাট এলাকার মৃত মাসুদ খানের ছেলে।

রোববার (১৩ জুন) ভোরে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুলের নেতৃত্বে রামু ও চকরিয়া থানা পুলিশের বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেন। এই ঘটনায় আটক যুবকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে রামু থানায় মামলা করেন ধর্ষণের শিকার সেই কলেজছাত্রী।

মামলার এজাহার ও সুত্র মতে, ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীর বড় বোনের বিয়ে হয় চকরিয়ার লইক্ষ্যারচর শিকলঘাট এলাকার এক ব্যক্তির সাথে। প্রায় ২ বছর আগে ওই বাড়িতে বেড়াতে গেলে একই এলাকার যুবক তাহমিদ খান মাহিনের সাথে পরিচয় হয় তার। পরে ছাত্রীটি চট্টগ্রামের একটি সরকারি কলেজে পড়াশোনার জন্য যান। সেখানে আসা-যাওয়ার সময় তাহমিদ মাহিন ছাত্রীটিকে বিয়ে করাসহ নানা প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এক পর্যায়ে তাহমিদ রামুতে ছাত্রীটির বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে।

এজাহার মতে, ২ বছর আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে তাহমিদের কাছে ধর্ষিত হন ছাত্রীটি। পরবর্তীতে বাড়িতে এবং বিভিন্নস্থানে নিয়েও তাহমিদ ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে আশ্বাস অনুযায়ি বিয়ে করার কথা জানালে তাহমিদ ছাত্রীটিকে ইতিপূর্বে মেলামেশাকালে ধারণকৃত ছবি দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দেয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য ছাত্রীটি বারবার অনুরোধ জানালে এক পর্যায়ে তাহমিদ গোপনে ধারণকৃত অশ্লীল ছবি ভুঁয়া নামে আইডি খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এমনকি ছাত্রীটিকে বিয়ে করার আশ্বাস এবং ধর্ষণের কথাও অস্বীকার করে মাহিন।

এতে নিরূপায় হয়ে ২০২০ সালের ১১ জুলাই তাহমিদ খান মাহিনকে অভিযুক্ত করে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার ছাত্রী নিজে। ওই সময় রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ২০০০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় ছাত্রীর অভিযোগ নিয়মিত মামলা (মামলা নাম্বার-২১) হিসেবে রুজু করেন।

হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও ধর্ষণকারি গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে তারা এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দাবি জানিয়েছেন।

রামু থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জানান, আসামী দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় ধর্ষণে অভিযুক্ত তাহমিদ খান মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাকে কোর্টহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!