যেভাবে মারা গেলেন ডালিম, একটি আইসিইউ বেডের জন্য ….!

যেভাবে মারা গেলেন ডালিম, একটি আইসিইউ বেডের জন্য ....!

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

তিনদিনের চেষ্টায় ম্যানেজ হয়েছিল আইসিইউ। সেই আইসিইউতে নেয়ার জন্য এম্বুলেন্সও এসেছিল আইসোলেশন সেন্টারে। এম্বুলেন্স পৌঁছলেও সেই এম্বুলেন্সে উঠার সুযোগ আর হয়নি তার। তার আগেই যে প্রাণটা নিভে গেছে আবু সায়েম ডালিমের।

একটি আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বেডের অভাবে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন কক্সবাজার শহরের তাজা প্রাণ, তরুণ পর্যটন ব্যবসায়ী ও অতি পরিচিতি মুখ আবু সায়েম ডালিম (৪৩)। শহরের তারুণ্য জগতে যিনি ‘সায়েম ভাই’ নামেই পরিচিত ছিলেন। বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া অদেখা শত্রু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (৫ জুন) ৬টা ৫ মিনিটে উখিয়ায় বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত আইসোলেশন সেন্টারে জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটি ফেলেছেন তরুণ ডালিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

জাতিসংঘের ‍উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ওই আইসোলেশন সেন্টারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন, আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়েই আবু সায়েম ডালিম মারা গেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে আবু সায়েম ডালিমের মৃত্যুর বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, গত ৩ জুন আবু সায়েম ডালিমকে উখিয়ার ওই আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। ভর্তিকালেই ডালিমের আত্মীয়স্বজনদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, তার আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। আইসিইউ ছাড়া তার সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হবে না।

ডালিমের নিকটাত্মীয়রা চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে একটি আইসিইউ বেড খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও একটি আইসিইউ বেড পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে উখিয়ার ওই আইসোলেশন সেন্টারেই ডালিমকে রাখতে হয়েছে। কেননা উখিয়ার সেই আইলোলেশনের মতোও অন্য আইসোলেশনে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

উখিয়ার আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তির সময় আবু সায়েম ডালিমের অক্সিজেন সিচুয়েশন ছিল ৮০-৯০। আস্তে আস্তে সেই অক্সিজেন সিচুয়েশনও কমতে থাকে। পরদিন তা হয়ে যায় ৭০। মৃত্যুর সময় ডালিমের অক্সিজেন সিচুয়েশন এসে দাঁড়ায় ৫৫’তে।

আইলোলেশনটির ওই কর্মকর্তার মতে, আজ শুক্রবার ডালিমের নিকটাত্মীয়রা তার জন্য আইসিইউর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্সও আইসোলেশনে এসে পৌঁছেছিল। কিন্তু এম্বুলেন্সে তার আর উঠা হয়নি। তার আগেই সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

তিনি জানান, আইসোলেশন হাসপাতালে থাকা অক্সিজেনের সর্বোচ্চ মাত্রা ডালিমকে দেয়া হয়েছে। প্রতি মিনিটে ১০ লিটার অক্সিজেন দিতে হয়েছে তাকে। তারপরও তাকে বাঁচানো যায়নি। শুধু অক্সিজেন দিয়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। তার প্রয়োজন ছিল আইসিইউর।

ওই কর্মকর্তা জানান, আবু সায়েম ডালিম শুধু করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না, তার ছিল উচ্চ রক্তচাপ। সবকিছু মিলিয়ে তার কন্ডিশন ভালো ছিল না।

উখিয়ার আইসোলেশন সেন্টার সুত্র জানিয়েছেন, এ প্রতিবেদন তৈরিকালে (রাত সাড়ে ৮টা) আবু সায়েম ডালিমের মৃতদেহ ‘ডিসইনফেকশন’ করার কাজ চলছিল। দুই/তিন ঘন্টার মধ্যে মৃতদেহ ডিসইনফেকশন করে তার নিকটাত্মীয়দের হাতে তুলে দেয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের করোনা বিধি মেনেই প্যাকেটজাত করে মরদেহ করা হবে বলেই নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা আবু সায়েম ডালিম (৪৩) গত ২ জুন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে করোনা টেষ্টে ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট পান। ওইদিন রাতেই তাঁকে প্রথমে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে, পরে সেখান থেকে উখিয়ার বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!