যেভাবে করোনা আক্রান্ত হলেন টেকনাফের হোছাইন, ৪০ বাড়ি ও ২৫ দোকান লকডাউন

নাইক্ষ্যংছড়ির করোনা রোগীকে রামু আনা হয়নি, বাড়িতেই আছেন

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারে রোববার (১৯ এপ্রিল) একদিনে ৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদেরই একজন জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের উপকূলীয় উপজেলা বাহারছড়ার বাসিন্দা ও কাঁচা আম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন। তিনি কখন, কিভাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন এবং কিভাবে তার চিকিৎসা চলছে, সে বিষয়ে বিশদ এক বিবৃতি দিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল।

এই ঘটনায় ৪০টি বসতবাড়ি ও ২৫টি দোকান লকডাউন এবং দেড় কিলোমিটার রাস্তায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ডা. টিটু শীল দাবি করেন, ওই করোনা রোগীকে অনেক চেষ্টা করেও রামুর বিশেষায়িত করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাতে পারেননি। রোগী ওখানে যেতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি করেছেন। ওখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমি একা যে যুদ্ধে যাত্রা শুরু করেছি, সেই মরণ যুদ্ধে যাতে রোগীসহ আমরা সকলেই জয়ী হতে পারি।’

তিনি আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে টেকনাফে বিদেশ ও ভিন্ন জেলা থেকে সদ্য আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে চিরুণী অভিযান চালানোরও ঘোষণা দিয়েছেন।

তার মতে, ওইসব ব্যক্তিদের খোঁজে বের করে নমুনা সংগ্রহ করে টেষ্টের জন্য কক্সবাজার ল্যাবে পাঠানো হবে।

ডা. টিটু শীলের মতে, বাহারছড়ার আম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন ১৩ দিন আগে (৬ এপ্রিল) আম বিক্রি শেষে নারায়নঞ্জ ও ঢাকা ঘুরে নিজের বাড়িতে ফেরেন। ওই সময় তার সাথে আরও চারজন ছিলেন। বাড়ির আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে তিনি নিজেই টেকনাফের একটি ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে খেতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা থেকে প্রশাসনের হটলাইন নাম্বারে ফোন দিয়ে জানান এলাকাবাসি। তারপরই ওই রোগীকে খুঁজে বের করে করোনা টেষ্ট করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে পাঠানো হয়। রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে টেষ্ট রিপোর্ট পাওয়া যায়। আর সেই রিপোর্ট ছিল, মোহাম্মদ হোছাইন ‘করোনা পজিটিভ’।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ডা. টিটু চন্দ্র শীল এই বিবৃতিটি দেন। যা কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য সংশোধিত আকারে তুলে ধরা হলো।

আজ ১৯.০৪.২০১৯ইং, রোজ রবিবার টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হলো। বর্তমানে রোগীকে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টেকনাফে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।

রোগীর নামঃ মোঃ হোসাইন, বয়সঃ ৫৫ বছর।
পিতাঃ মৃত মোঃ আব্বাস আলী।
ঠিকানা : মারিশবুনিয়া, বাহারছড়া, টেকনাফ।

রোগীর ইতিহাস:
বিগত ১৩ দিন পূর্বেই অর্থাৎ ০৬.০৪.২০২০ইং নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা থেকে কাঁচা আম বিক্রি করে নিজ বাসভবন বাহারছড়ায় আসেন। তাঁর কিছুদিন পূর্বেই তিনি ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে আসার পর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে যান।

আসার সময় তাঁর সঙ্গী ছিল আরো ০৪ জন। আসার পর তিনি অসুস্থতা বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে নিজেই টেকনাফ সদরের একটি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। এই খবর জানাজানি হলেই আমাদের হটলাইন নাম্বারে ফোন করে এলাকার জনসাধারণ অভিহিত করেন।

গতকাল তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে আজ বিকাল ২.৩০টায় তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়।

এই কয়দিন ওনি যেখানে যেখানে বিচরণ করেছেন সেই সব বাড়ি (৪০টা), দোকান (২৫ টা) লকডাউন এবং ১.৫ কি.মি রাস্তা ১৪৪ ধারা জারি করে সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

আগামীকাল চিরুনি অভিযান চালিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

শত চেষ্টা করেও ঐ রোগীকে রামু ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ এর জন্য আইসোলেশন হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয় নাই। (বিঃদ্রঃ অদ্যাবদি একজন রোগীও ঐ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় নাই)।

যাক আল্লাহ ভরসা। আমরা নিজেরাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টেকনাফে ভর্তি করিয়েছি। সল্পসংখ্যক ডাক্তার দিয়ে পরিচালিত উক্ত হাসপাতালের ডাক্তারবৃন্দ সংশয়ে আছেন। সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি, আমি একা যে যুদ্ধে যাত্রা শুরু করেছি, সেই মরণ যুদ্ধে যাতে রোগীসহ আমরা সকলেই জয়ী হতে পারি।

আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং ক্ষমা করে দিবেন। অযথা হাসপাতালে ভীড় কিংবা উক্ত আক্রান্ত রোগীকে নাজেহাল না করার জন্য সকল মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দকে বিনীত অনুরোধ করছি।

অনুরোধক্রমে:
ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টেকনাফ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!