যাত্রীসেজে প্রাইভেট কারসহ চালককে অপহরণ, কক্সবাজারে উদ্ধার ও অপহরণচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

শামসু নামের একজন প্রাইভেট কার চালক দুইজন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসছিলেন। পথিমধ্যে ঘটে বিপত্তি। যাত্রীরাই হয়ে উঠে সন্ত্রাসি ও ছিনতাইকারি। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই চালক শামসুর মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে তারা। এরপরই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয় যাত্রীবেশি ছিনতাইকারিরা।

নির্ধারিত স্থানে অপেক্ষমান থাকা সংঘবদ্ধ চক্রের আরও কয়েকজন যোগ দেয় অপহরণ মিশনে। সবাই মিলে চালক শামসুকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার একটি পাহাড়ে নিয়ে আটকে রাখে।

এই সময়ে চালক শামসুর মাধ্যমে ঢাকাস্থ গাড়ির মালিকের কাছে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারিরা। টাকা না পেলে ড্রাইভারকে মেরে ফেলবে, গাড়ি অন্যত্র বিক্রি করে দেবে বলেও হুমকি দেয় তারা।

তখন গাড়ির মালিক পুলিশের জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য নেন এবং ৯৯৯ নাম্বার থেকে উখিয়া থানাকে অপহরণের বিষয়টি জানানো হয়।

উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উখিয়া থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) নেতৃত্বে ৩টি চৌকস টিম সম্ভাব্য ৩টি জায়গায় একটানা অভিযান পরিচালনা করেন।

অবশেষে উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালংয়ের পাহাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার ও অপহরণ চক্রের ৮ জন (৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারী) সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো মতে উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের আরেক জায়গা থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত সাংবাদিকদের তুলে ধরেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করে, তারা প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়া গাড়ি কক্সবাজারে এনে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি করে।

এসপি হাসানুজ্জামান বলেন, তারা মাদক, চোরাকারবারিও করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের মাদকের সিন্ডিকেট রয়েছে। আটককৃতদের ৪ জনের নামে আদালতে হত্যা, ডাকাতি ও মাদক আইনে পূর্বে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তাঁর মতে, তারা বিভিন্ন সময়ে জেলে থাকার সুবাদে বিভিন্ন জেলার লোকজনের সাথে পরিচয় ঘটে এবং তারা জেল থেকে বের হয়ে মাদক ও অপহরণের এই সিন্ডিকেট গঠন করে।

এসপি জানান, ৯৯৯ এর ফোনকলে পুলিশের অভিযানে একজন মানুষের জীবন বাঁচালো। উদ্ধার হলো গাড়ি। সেই সঙ্গে অনেক বড় একটি অপরাধীচক্র শনাক্ত হলো।

এসপি মো: হাসানুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!