মা-বাবার পাশেই চিরসমাহিত পর্যটন ব্যবসায়ী ডালিম

মহিউদ্দিম মাহী, প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের অতি পরিচিত মুখ ও পর্যটন ব্যবসায়ী আবু সায়েমের নামাজে যানাজা শেষ হয়েছে। রাত ১১টার দিকে শহরের বাহারছড়া বাজারের পাশেই তার নামাজে জানাযা হয়।

করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় তার জানাযা হয়েছে খুব সীমিত পরিসরে। ইমামতি করেছেন কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দাফন-কাফন কমিটির ইমাম।

জানাযা শেষে বাহারছড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তার মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।

একেবারে আবু সায়েম ডালিমের মা-বাবার কবরস্থানের পাশেই তাকে চিরসমাহিত করা হয়েছে। আজকের এইদিনে তার বাবা জয়নাল আবেদীন মারা গিয়েছিলেন। আশ্চর্যজনক হলেও বাবার মৃত্যু বার্ষিকীর দিনেই পুত্র আবু সায়েম ডালিম চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

এদিকে আজ রাতে উখিয়ার ডেডিকেটেড হাসপাতাল থেকে আবু সায়েম ডালিমের মৃতদেহ ‘ডিসইনফেকশন’ করার পর রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের করোনা বিধি মেনেই প্যাকেটজাত করে মরদেহ আসে বাহারছড়ায়। সেখানে কোন ধরণের বাড়তি মানুষের ভিড় করতে দেয়া হয়নি।

ডালিমের বিষয় নিয়ে তাঁর খালাতো ভাই সাংবাদিক নেছার আহমদ জানান, আবু সায়েম ডালিম ঈদের কয়েকদিন দিন আগে থেকে জ্বর, কাশি ও সর্দিতে ভোগেন। ওই সময়ে ১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত জ্বর উঠানামা করে। ৩০ মে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনার নমুনা জমা দিয়ে আসেন। গত মঙ্গলবার (২ জুন) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ওইদিনই অবস্থা খারাপ হলে রামু আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

সাংবাদিক নেছার জানান, রামুর আইসোলেশন ওয়ার্ডে গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে গত বুধবার (৩ জুন) উখিয়ার ডেডিকেটেড আইসোলেশন সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। যদিও এই সময়ের মাঝে ডালিমের নিকটাত্মীয়রা চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে একটি আইসিইউ বেড খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও একটি আইসিইউ বেড পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে উখিয়ার ওই আইসোলেশন সেন্টারেই ডালিমকে রাখতে হয়েছে। কেননা উখিয়ার সেই আইলোলেশনের মতোও সুবিধা অন্য আইসোলেশনে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

উখিয়ার আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তির সময় আবু সায়েম ডালিমের অক্সিজেন সিচুয়েশন ছিল ৮০-৯০। আস্তে আস্তে সেই অক্সিজেন সিচুয়েশনও কমতে থাকে। পরদিন তা হয়ে যায় ৭০। মৃত্যুর সময় ডালিমের অক্সিজেন সিচুয়েশন এসে দাঁড়ায় ৫৫’তে।

আইসোলেশনটির এক কর্মকর্তার মতে, আজ শুক্রবার ডালিমের নিকটাত্মীয়রা তার জন্য আইসিইউর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্সও আইসোলেশনে এসে পৌঁছেছিল। কিন্তু এম্বুলেন্সে তার আর উঠা হয়নি। তার আগেই সন্ধ্যায় মারা গেলেন আবু সায়েম ডালিম।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান ও এক কন্যা সন্তান রেখে যান।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!