মাদ্রাসার ছাত্র হয়েও যেভাবে বখে গেলেন নজরুল রাজ

মাদ্রাসার ছাত্র হয়েও যেভাবে বখে গেলেন নজরুল রাজ

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তিনি মাদ্রাসা পড়াশুনা করলেও রাজধানীতে এসে বখে গেছেন। অবৈধ পথে রোজগার করেছেন কোটি কোটি টাকা। এক সময়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটানো নজরুল রাজ কয়েক বছরের ব্যবধানে হয়েছে গাড়ি-বাড়ি ও কোটি কোটি টাকার মালিক। উঠতি বয়সী তরুণীদের সিঁড়ি বানিয়ে এই কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন তিনি।

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর তারা জানান, তরুণীদের দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং ছাড়াও পর্নোগ্রাফি ভিডিও বানাতেন রাজ। বুধবার পরীমণির বাসার অভিযান শেষে রাজ-এর বাসায় হানা দেয় র‌্যাব। উদ্ধার করা হয় বিকৃত যৌনাচারের সরঞ্জাম।

রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজ-এর শোবিজ জগতে ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৪ সালে। এরপর নাটক ও সিনেমা প্রযোজনা শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাজ মাল্টিমিডিয়া। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতেন রাজ। গ্রেপ্তারের পর এমনটাই জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকালে র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজ ১৯৮৯ সালে খুলনার একটি মাদ্রাসায় দাখিল শেষ করেন। যদিও তার দাবি, ঢাকায় এসে তিনি গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। পরে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন। ঠিকাদারির কাজও করেন। এরপর মিডিয়ার ব্যবসায় তার প্রবেশ ঘটে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজ মাল্টিমিডিয়া নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়েন নজরুল ইসলাম রাজ। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ করে বিপুল অংকের অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। ব্যবসায়িক ও চিত্রজগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

আল মঈন বলেন, রাজ গ্রেপ্তার হওয়া শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০-১২ জন তরুণী নিয়ে একটি অপরাধচক্র তৈরি করেন। এই চক্রটি গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টির আয়োজন করতো। এসব পার্টিতে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম সংঘটিত হতো। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের থেকে বিভিন্নভাবে মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করা হতো। এরই মাধ্যমে রাজসহ এই চক্রের সদস্যরা রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক বনে যান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া রাজ জানিয়েছে- এসব অনৈতিক কাজ ও ডিজে পার্টি দিয়ে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে যেসব অর্থ উপার্জন করতেন তা নিজের আমদানি, ঠিকাদারি, বালুভরাটসহ বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করতেন। তার এসব ব্যবসায় কয়েকজন অর্থের যোগানদাতার নামও বলেছেন রাজ। তার সেসব ডিজে পার্টিতে কারা অংশ গ্রহণ করতো, কারা অর্থ সরবরাহ করতো সেসব বিষয়ে তথ্য পেয়েছি আমরা। আসামি কর্তৃক দেয়া তথ্যগুলো তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!