মহেশখালীর কুতুবজুমে গোলাগুলিতে একজন নিহত ও গুলিবিদ্ধ ৫, দুই ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ বন্ধ

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের অন্যতম দ্বীপ উপজেলা মহেশখালির কুতুবজোম ইউনিয়নে একটি ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ কামাল ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও আরও অন্তত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌঁণে ১১টার দিকে কুতুবজুম ৫নং ওয়ার্ড পশ্চিম পাড়ায় জামিয়ুসসুন্নাহ দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই ওই কেন্দ্র এবং পার্শবর্তী কুতুবজুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষ ও গোলাগুলির এই ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

মহেশখালীর কুতুবজোমে নির্বাচনী সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৭ জন গুলিবিদ্ধ

নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামাল বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকরা ৫নং ওয়ার্ড জামিয়ুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে হঠাৎ ধারালো ছুরি নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে দু’জনকে ছুরিকাঘাত করে। এরপরই পরিকল্পিতভাবে গুলি করে তারা।

এই ঘটনায় আহতরা নৌকা প্রতীকের সমর্থক-কর্মী বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর করা অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত মোশারররফ হোসেন খোকন বলেন, প্রায়ই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে শেখ কামালের সন্ত্রাসী বাহিনী। এমন খবর পেয়ে ভোটার ও তার সমর্থকরা ৪নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রে গেলে নৌকা প্রার্থীর ক্যাডাররা গুলি করে।

তিনি বলেন, ৫নং ওয়ার্ডের জামিয়ুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের ফরিদুল আলম ও টিউবওয়েল প্রতীকের জহিরুল ইসলামের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানেও আমার লোকজন হামলা করেছে বলে মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুতু্বজুম ইউপি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহামুদুর রহমান বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছেঁছি। দুই কেন্দ্রই পাশাপাশি। আপাতত দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায় ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।

এসপি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, দুটি কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একটু পরে ভোটগ্রহণ আবার শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!