মহেশখালীতে অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধস, নিচু এলাকা প্লাবিত ও একজনের মৃত্যু

মহেশখালীতে অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধস, নিচু এলাকা প্লাবিত ও একজনের মৃত্যু

ফারুক ইকবাল, মহেশখালী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

প্রবল বৃষ্টিতে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে ব্যাপকভাবে পাহাড় ধসে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রবল পানির বেগে রাস্তার বেহালদশা হয়ে উঠেছে।

শনিবার থেকে দিন-রাত অতি বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়েছে। পাহাড় ধসে অন্তত ৫০টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রধান সড়ক ও চলাচলের রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এদিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ারঘোনা এলাকার মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে আলি মিয়া (১২০) দিবাগত রাত ৪টার দিকে পাহাড় ধসে বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে নুর আমিন। একই পরিবারের নুর আমিনের ছেলে আলমগীর (১৪) মারাত্মক জখম হয়ে পা ভেঙে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং কয়েকটি গৃহপালিত গরু ও ছাগল মাটি চাপা পড়ে মারা গেছে।

অপরদিকে পাহাড়ি ঢল, বৃষ্টির পানি ও জোয়ারের কারণে মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কুতুবজোম, বড় মহেশখালী ও পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৭০০’র অধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, মঙ্গলবার থেকে পানিবন্দি হলেও কোন প্রকার খাদ্যসামগ্রী না থাকায় না খেয়ে আছেন এবং কোন জনপ্রতিনিধিও তাদের কোন খাদ্য সামগ্রী দেননি।

মঙ্গলবার মাতারবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। পরিদর্শনকালে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে সরকারি ত্রাণ দেয়া হবে, সরকারি কোষাগার থেকে সহযোগিতা করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং মাতারবাড়ী ও ধলঘাটায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার পাহাড় ধসে নিহত ও আহতদের দেখতে হোয়ানক, কালারমারছড়া ইউনিয়নে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তা করেন আশেক উল্লাহ রফিক এমপি এবং পাহাড় থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, ‘সোমবার থেকে পাহাড়ি এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারি পরিবারদের পাহাড় থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে অনুরোধ করে মাইকিং করা হয়েছে। কিছু কিছু পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারি কোষাগার থেকে দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করতেছি।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!