বাবা-মা ও দুই বোনের লাশ নিয়ে দাদার লাশ দেখতে যাচ্ছে মিম!

বাবা-মা ও দুই বোনের লাশ নিয়ে দাদার লাশ দেখতে যাচ্ছে মিম!

সারাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

খুলনায় দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাবা-মা ও দুই বোনের সঙ্গে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল শিশু মিম। তবে দাদার লাশ দেখার আগেই পরিবারের সব সদস্যকে হারাতে হলো তাকে। সে ছাড়া তার সঙ্গে থাকা সবাই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এবার তাই বাবা-মা ও দুই বোনকে নিয়ে নয়, বরং তাদের লাশ সঙ্গে নিয়ে দাদার লাশ দেখতে যেতে হচ্ছে ছোট্ট মিমকে।

সোমবার (৩ মে) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন মিমের বাবা-মা ও দুই বোনের লাশও।

দুপুরে শিবচরের পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে ভর্তি শিশু মিমকে জিজ্ঞাসা করলে বাবা মা ও দুই বোনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরে সে।
শিবচর ইউএনও অফিসের এক কর্মচারী ও বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের নৈশপ্রহরী দেলোয়ার ফকিরের তত্বাবধানে শিশুটি হাসপাতালের একটি কক্ষে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল তখন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিশু মিমের বাবা মনির হোসেন, মা হেনা বেগম, ছোট দুই বোন সুমি (৫) ও রুমি (৩) স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মারা গেছে। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ রাখা হয়েছে স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে।

খুলনার তেরখাদায় এই পরিবারের বাড়ি। সেখানেই যাচ্ছিলেন তারা।

মিমকে উদ্ধারকারি নৌ পুলিশের কনস্টেবল মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিশুটিকে নদীতে ব্যাগ ধরে ভাসতে দেখি। হাত ও চোখের কাছে আঘাতের চিহ্ন ছিল সামান্য। দ্রুত তাকে পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির পরিবারের সকল সদস্যরাই মারা গেছে।’

শিশু মিম শুধু জানে তার মা, বাবা, বোনেরা কেউ বেঁচে নেই। মাঝে মাঝেই মা মা বলে কেঁদে উঠছে সে।

কান্নারত অবস্থায় মিম বলে, ‘আমরা দাদু বাড়ি যাচ্ছিলাম। দাদা মারা গেছে। তাকে দেখতে। আমার আর কেউ নাই।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!