নুনিয়াছড়ার ‘ইয়াবা কারবারি’ টিটু জমি জবরদখল মামলায় গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকায় অন্যের জমি জবরদখল করতে গিয়ে হামলার ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি ও ইয়াবা কারবারি শামসুল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোপূর্বে একই ঘটনায় জড়িত তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারসহ দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ দাবি করেছে, ধৃত শামসুল আলম টিটু কক্সবাজার পৌর এলাকাধীন দুই নাম্বার ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসি, অবৈধ অস্ত্রধারি, পরের জায়গা জবর দখলকারি, দাঙ্গাবাজ ও লাঠিয়াল ভূমিদস্যু।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা সুত্র জানায়, ওই এলাকার আবদুল জলিলের ছেলে শামসুল আলম টিটুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় ইয়াবা পাচার মামলা রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, শামসুল আলম টিটু একজন মাদক সেবনকারি ও মাদক ব্যবসায়ী।

মামলা সুত্র মতে, গত ২৫ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অন্যের জমি দখল নিতে দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছিল শামসুল আলম টিটু ও তার সহযোগীরা। ওই হামলায় আরিফ মো. তারেক নামের এক যুবকসহ অন্তত ৩ জন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে তারেকের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে উত্তর নুনিয়াছড়া জামে মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে বিরোধীয় জমিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ ওইদিনই ইয়াছমিন আক্তার (৩৫) ও আলেয়া বেগম (৪৫) নামের দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে।

হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত আরিফ মো. তারেকের বাম হাতের দু’টি হাড় ভেঙ্গে যায় এবং ধারালো দা’য়ের আঘাতে মাথায় মারাত্মক জখম হয়। আহত অন্য দুইজন হলেন আবদুল্লাহ আল মামুন (৩০) ও মোঃ সুমন (২৪)।

এই ঘটনায় জমির মূল মালিক এনামুল হক বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত ৫ জনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা জমা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্র মতে, হামলাকারিরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর নুনিয়াছড়ার নুরুল হক ওরফে হেডক্লার্ক নুরুল হকের ছেলে এনামুল হক ও তার ভাই-বোনদের ওয়ারিশী জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিল। মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে আবদুল জলিলের ছেলে মনিরুল হক লেডু ও শামসুল আলম টিটু এবং মৃত নুরুল হকের ছেলে নুর হোসেন ওরফে পুতুইয়ার নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একদল সন্ত্রাসি সশস্ত্র অবস্থায় জমির দখল নিতে হামলা চালায়। ওই সময় মামলার বাদীর ভাতিজা আরিফ মো. তারেক, ভাগিনা আবদুল্লাহ আল মামুন ও ভাজিতা মোঃ সুমন বাধা দিতে গেলে হামলাকারিরা তাদের উপর হামলে পড়ে।

এজাহার মতে, সন্ত্রাসিদের হামলায় আরিফ মো. তারেক, আবদুল্লাহ আল মামুন ও মোঃ সুমন গুরুতর আহত হন। তারেকের বাম হাতের হার দু’টি ভেঙ্গে যায় এবং দা’য়ের আঘাতে মাথায় প্রায় ৪ ইঞ্চি গভীর জখম হয়।

নুনিয়াছড়ার ‘ইয়াবা কারবারি’ টিটু জমি জবরদখল মামলায় গ্রেপ্তার
হামলায় আহত আরিফ মো. তারেক।

বাদী এনামুল হক দাবি করেন, আরিফ মো. তারেককে হত্যার জন্যই তার উপর সন্ত্রাসিরা হামলা করে। কিন্তু এলাকাবাসি এগিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

এই হামলায় জড়িত মৃত নুরুল হকের ছেলে নুর হোসেন ওরফে পুতুইয়া (৩২), মৃত আবদুল জলিলের ছেলে শামসুল আলম টিটু (৩৮), মনিরুল হক লেডু (৫০) ও এনামুল হক ওরফে এনামবাজী (৪০), শফিউল আলমের স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩৫), লাঠিবুইজ্জার ছেলে শফিউল আলম (৪৫), মনিরুল হক লেডুর ছেলে মো. কামাল (২৮), শামসুল আলম টিটুর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩৫), এনামুল হক ওরফে এনামবাজীর ছেলে আলেয়া বেগম (৪৫), মৃত আবদুল জলিলের স্ত্রী লায়লা বেগম ওরফে লালুসহ (৫৫) অন্তত ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

এদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শামসুল আলম টিটু ও ঘটনার দিন শামসুল আলম টিটুর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার ও এনামুল হক ওরফে এনামবাজীর স্ত্রী আলেয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অপরদিকে গুরুতর আহত আরিফ মো. তারেককে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জমি জবরদখলে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, ধৃত শামসুল আলম টিটুর নানা অপকর্মের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে।

এসআই আলমগীর হোসেনের মতে, ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে শামসুল আলম টিটুর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় মামলা রয়েছে। চলমান ও তদন্তাধীন মামলাটিতে শামসুল আলম টিটু এজাহারনামীয় আসামি। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর রুজু হওয়া মামলাটির নাম্বার হলো ২৩/২০১৫।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!