তালেবানের অর্থ আসে যেভাবে, কত টাকার মালিক?

তালেবানের অর্থের যোগান আসে যেভাবে

বিশ্ব ডেস্ক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর গত দুই মাসে একের পর এক এলাকার দখল নিচ্ছে তালেবান। রোববার সকালে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদের দখল নিয়েছে তালেবান। এখন পর্যন্ত ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৬টির রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান।

তালেবান বাহিনীর এমন সাফল্যের পেছনে ধর্মীয় উন্মাদনার পাশাপাশি বিপুল অর্থশক্তি বড় কারণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। আর সেই অর্থ আসে নানা পথ ধরে।

ফোর্বস পত্রিকায় ২০১৬ সালের তালিকায় বিশ্বের পঞ্চম ধনী সশস্ত্র গোষ্ঠী ছিল তালেবান। ২০১৮ সালে তালিকায় তাদের অবস্থান উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লা।

২০১৮ সালে তালেবানের আনুমানিক সম্পদ ছিল ৮০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ২০২০ সালে তা বেড়ে দেড়শ’ কোটি ডলার হয়েছে।

সেবছর আফগান সরকারের মোট রাজস্ব আদায় ছিল ৫৫০ কোটি ডলার। এর ২ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছিল প্রতিরক্ষা খাতে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের অর্থ আমদানির বৃহত্তম উৎস হলো খনি, বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। দক্ষিণ আফগানিস্তানের অধিকৃত অঞ্চল থেকে নিকেল, টাংস্টেন, সোনা, মূল্যবান পাথর, প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করে তারা।

সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, আফগানিস্তানের ৮০০ বৈধ খনির অর্ধেকেরও বেশি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। সরকার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বৈধ খনিগুলি থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে তালেবান।

ড্রাগের ব্যবসা এবং চোরাচালান থেকে বছরে আয় প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, অধিকৃত এলাকায় কৃষকদের জোর করে আফিম চাষ করায় তালেবান সদস্যরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ড্রাগ তৈরির কারখানা রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চক্রের। আদায় হয় বিপুল টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় অনেক দেশেই আছে তালেবানের বেনামি ব্যবসায়ী শাখা। তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত কর দিতে হয়। এ বাবদ বছরে রোজগার প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন মতে, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বাণিজ্য সংস্থার থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করে তালেবান। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা সংস্থাকে মাসোয়ারা দিতে হয়।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি বৈঠক চলাকালীন গত কয়েক বছরে জমি কেনাবেচা আর ইজারা দেয়ার ব্যবসাও জোরদার করেছে তালেবান। গত বছর এই খাতে এসেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

বছরে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পায় গোষ্ঠীটি। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতার থেকেই মূলত সরকারি-বেসরকারি অর্থসাহায্য পৌঁছায়। আসে পাকিস্তান থেকেও।

২০২০ সালের হিসাবে আফগান সরকার আদায় করা রাজস্বের থেকে মাত্র ২৬.২ কোটি ডলার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাহায্য আসে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার।

প্রতিরক্ষা খরচের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ওয়াশিংটন মুখাপেক্ষী আশরাফ ঘানি সরকার। সেনা প্রত্যাহারের পর সেই সাহায্য কমার আশঙ্কা প্রবল।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!