টেকনাফ পৌরবাসির ‘সেবা’ করতে মাঠে নেমেছেন শুক্কুর সিআইপি

টেকনাফ পৌরবাসির ‘সেবা’ করতে মাঠে নেমেছেন শুক্কুর সিআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

আগামি ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে পৌরবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন আবদুস শুক্কুর সিআইপি। প্রথম সেই সভায় মানুষের উপস্থিতি যেন জনসভায় পরিণত হয়। এভাবে প্রতিদিন রাত-দিন টেকনাফ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী এবং তরুণ রাজনীতিবিদ আবদু শুক্কুর সিআইপির বৈঠকখানা ও প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে মানুষের আনাগোনা। তাদের কেউ নিজের সমস্যা, কেউ অন্যের সমস্যা বলতে আসছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একে একে নিজের মতো করে ভালো-মন্দ সবই খুব কাছ থেকে মন খুলে বলতে পারেন তাঁকে মানুষ। বিশেষ করে গত একটি বছর মানুষের কথা গভীর মনযোগ দিয়ে শুনছেন মেয়র প্রার্থী শুক্কুর। কথা শেষে সবাই বাড়ি ফিরছেন হাসিমুখেই।

এলাকার মানুষের আলাপচারিতায় একজন ‘সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বে’র কথা উঠলে সবার আগে যে মানুষটির নাম উঠে আসছে তিনিই হচ্ছেন প্রয়াত এজাহার মিয়া কোম্পানীর ছেলে আবদু শুক্কুর সিআইপি। আগামি ২৩ ডিসেম্বর সীমান্তের টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে সংগ্রহ করেছেন মনোনয়ন ফরম। এরপর সমগ্র পৌরবাসীর সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তাঁর বাড়িতে। সভায় তাঁকে নির্বাচন করাতে একমত হন পৌরবাসি।

পৌরশহরের প্রতিটি মহল্লার মানুষ তাকে ‘শুক্কুর ভাই’ নামে চেনেন। মেয়র হয়ে পৌরশহরের রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের মাধ্যমে ‘গর্ব করার মতো’ একটি পৌরসভা উপহার দিতে চান তিনি।

আবদুস শুক্কুর সিআইপি টেকনাফ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। বাবা প্রয়াত এজাহার মিয়া কোম্পানীর তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে নেতৃত্ব দেয়া ও এলাকার মেহনতি-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করা নিজের চোখেই দেখেছেন আবদুস শুক্কুর। বাবার কাছ থেকেই অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন তিনি।

সমাজকর্মী শুক্কুর সরকারের উল্লেখযোগ্য সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে- মসজিদ মাদ্রাসায় অনুদান, অসহায় রোগিকে সেবা ও আর্থিক সহযোগিতা, রাস্তা ঘাটের সমস্যার সমাধান, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো। এছাড়াও করোনা দুঃসময়ে গ্রামের অসহায়দের ঘরে ত্রাণসামগ্রী পৌছে দিয়েছেন তিনি।

আগামি ২৩ ডিসেম্বন পৌরসভা নির্বাচনের জন্য একজন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছুটে চলেছেন তিনি। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও হিতাকাঙ্খিদের নিয়ে ভোটের জন্য দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। তরুণ প্রজন্মের নতুন ভোটারসহ সাধারণ মানুষের থেকে পাচ্ছেন ব্যাপক সাড়া।

শনিবার (২০ নভেম্বর) রাতে শহরের অলিয়াবাদস্থ তার বাসভবনে মতবিনিময় সভায় জনতার সামনে আবদুস শুক্কুর সিআইপি বলেন, পৌরসভায় আমার চাচা ১০ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু অবহেলিত থেকে গেছেন পৌরবাসী। রাস্তাঘাটের কোন পরিবর্তন করতে পারেননি তিনি। কোন মানুষ দস্তখত নিতে গেলে শুধুই হয়রানি ছাড়া কিছুই দেন না। কোন ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে মানুষের খোঁজখবর রাখেন না। এভাবে অনেক বছর কাংখিত সেবা পাচ্ছেন না পৌরবাসী।

তিনি বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি প্রার্থী হতে চাইছি। এতে যত বাধা ও শক্তিশালী প্রার্থী ভোটে আসুক না কেন নির্বাচন করেই যাবো।

মতবিনিময় সভায় পৌরসভার প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে আসা মুরব্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ভাই আপনাদের কাছের মানুষ আমার বাবা প্রয়াত এজাহার মিয়া কোম্পানী মারা গেলেও এবার ভোটের মাঠে মনে করবেন এজাহার কোম্পানী ভোট করতে এসেছেন। আপনাদের রায় ও সহযোগিতায় আমার বাবা যেমন উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে মারা গেছেন, ঠিক তাঁর মতোই আমিও মরে যাব।

এসময় উপস্থিত সকলে তাঁকে ভোট করতে সমর্থন জানান।

জবাবে তিনি বলেন, পৌর শহরের মানুষকে আমার বাবা যা সম্পত্তি দিয়ে গেছেন সব আপনাদের দিয়ে দেব। সরকার থেকে কোন বরাদ্দ নিতে হবে না, ইনশা আল্লাহ। আপনারা শুধুই আমার সাথে থাকবেন।

আসন্ন নির্বাচনে পৌরসভার তরুণ প্রজন্মসহ সচেতনমহলও টেকনাফ পৌর শহরের রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে শুক্কুর সিআইপিকে নিয়েই ভাবছেন। নির্বাচনী আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, বিগত কয়েকটি পৌর নির্বাচনের আগে অনেক সাবেক ও বর্তমান মেয়রের দেয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। পৌরশহরের বিভিন্ন রাস্তা কয়েকবছর ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে যেগুলো মেরামত করে দেবেন বলে বলে এখনও দেননি। রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে নোংরা-আবর্জনার স্তুপ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এছাড়া পৌরসভার বিদ্যুৎ সুবিধা, সুপেয় পানি ও বর্ষাকালে শহরে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই হযবরল। কাগজে-কলমে টেকনাফ পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভা হলেও নাজুক পরিস্থিতি পুরো পৌর এলাকার।

পৌর শহরের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘শুক্কুর সিআইপি একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। পৌর শহরের শহরের সকল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক এবং তিনি ব্যবসায়ীদের ভালোমন্দ বিষয়ে সবসময় খোঁজ রাখেন। তার মতো একজন সৎ ও যোগ্য মানুষ আগামীতে টেকনাফ পৌর মেয়র হলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবেন। সেই সঙ্গে পৌর শহরের মার্কেটগুলো চুরি-ডাকাতির মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনামুক্ত হবে এবং পৌরবাসী অনেক সুবিধা ভোগ করবেন।’

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গন ও মসজিদ মাদ্রাসাসহ সবখানে শুক্কুরের রয়েছে অবাধ বিচরণ। এলাকার ব্যাটমিন্টন, ক্রিকেট ও ফুটবলপ্রেমিরা তাদের আবদার নিয়ে তার কাছে গিয়ে কখনও খালি হাতে ফেরেননি। অর্থের অভাবে যেনো তার এলাকার কোনো দরিদ্র ছেলেমেয়ের পড়ালেখা বন্ধ না হয়, সেদিকে শুক্কুর সিআইপির সুনজর খুব তীক্ষ্ম। এ ধরণের একজন শিক্ষিত ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি আগামীতে জনপ্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে এলাকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতে আমূল পরিবর্তন ঘটবে’ মনে করেন ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন।

টেকনাফ বাস ষ্টেশনের সাইকেল মার্ট এর সত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আবদুস শুক্কুর একজন সৎ ও উদার মানুষ। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ান। আগামীতে মেয়রের চেয়ারে বসার সুযোগ পেলে তিনি টেকনাফ পৌরবাসীর জন্য সবধরণের উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবেন।’

মেয়রপ্রার্থী আবদুস শুক্কুর সিআইপি বলেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা আমি আমার প্রয়াত বাবা এজাহার মিয়া কোম্পানী কাছ থেকেই পেয়েছি। আর বাবাও চেয়েছিলেন, আমি যেনো সারাজীবন মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করি। বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেই আগামী পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এতে আমি আমার এলাকার সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছি। এর প্রতিদান জনগণ ২৩ ডিসেম্বর ব্যালটের মাধ্যমে দেবেন, ইনশা আল্লাহ।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!