জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৪ অস্ত্র উদ্ধার, সাথে ছিলেন সীমান্তে আটক ছেলে শাহজাহান মিয়া

জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৪ অস্ত্র উদ্ধার, সাথে ছিলেন সীমান্তে আটক ছেলে শাহজাহান মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের কাছাকাছি বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তে আটক টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়াকে সাথে নিয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ তার টেকনাফস্থ বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই অভিযানে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া ও তার বাবা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, ৪টি দেশে তৈরী অস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বাবা জাফর আহমদ ও ছেলে শাহজাহান মিয়া দুজনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা ৭৩ জন শীর্ষ ইয়াবা গডফাদারের তালিকায় রয়েছেন। ওই তালিকায় ৬ নাম্বারে রয়েছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও ৯ নাম্বারে রয়েছে টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া।

আটক শাহাজাহানের বাবা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের বসতবাড়ির পেছনে জেনারেটর রুমে মাটির নিচ থেকে ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস।

ওসি জানান, গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর বেনাপোল সীমান্তে আটক হন শীর্ষ মাদক কারবারি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া।

এদিকে সেই খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর টেকনাফ থানা পুলিশ সদস্যরা বেনাপোল থেকে নিয়ে আসে টেকনাফে। তারপর তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ২৮ জুলাই রোববার বিকেলে পুলিশের একটি টিম টেকনাফ সদর ইউনিয়ন লেংগুরবিল এলাকায় আটক শাহজাহানের বাবা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পিছনে জেনারেটর রুমে মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫০ হাজার ইয়াবা, দেশীয় তৈরী ৪টি অস্ত্র, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি প্রদীপ বলেন, মাদক পাচার প্রতিরোধ ও কারবারীদের নির্মুল করার জন্য টেকনাফ সীমান্তে পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। অনেক ইয়াবা পাচারকারী এই কঠোর অভিযান থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আত্মসমর্পন করে। আবার অনেকেই সু-কৌশলে পাড়ি দেয় বিদেশে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান শাহজাহান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্তে পুলিশের জালে ধরা পড়ে।

তিনি জানান, ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পনকারি ১০২ জনের সাথে আত্মসমর্পন করেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে ও গ্রেপ্তার হওয়া শাহজাহান মিয়ার বড় ভাই দিদার মিয়া।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!