পেকুয়া

চিংড়িঘের থেকে খালি হাতে ধরে এনে থানায় দেয়া হলো অস্ত্রহাতে!

চিংড়িঘের থেকে খালি হাতে ধরে এনে থানায় দেয়া হলো অস্ত্রহাতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় অস্ত্রসহ ধৃত যুবককে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ‘মারাত্মক জখমী’ থাকায় কক্সবাজার কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে ওই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিছেন।
তার পারিবারিক সুত্র দাবি করছেন, অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তি শহিদুল ইসলামের (২৭) অবস্থা কঠিন।

গত ৮ এপ্রিল (বুধবার) সন্ধ্যার দিকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় উজানটিয়া ইউপির কার্যালয়ে তাকে হাজির করানো হয়।

নির্ভরযোগ্য সুত্র দাবি করছেন, আটক ব্যক্তি শহিদুল ইসলামকে ইউপি কার্যালয়ে আটকিয়ে রাখা হয়। ওই সময় তাকে বেধড়ক মারধর ও নিষ্টুর নির্যাতন চালানো হয়। পরে পুলিশকে রাতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ আটক ব্যক্তিকে মামলা রুজু করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠায়। সেসখানে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

প্রাপ্ত সুত্র মতে, ৮ এপ্রিল বিকেলে উজানটিয়া ইউনিয়নে টেকপাড়ার ৮/১০ জন যুবকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।

ওই সুত্রের দাবি, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ব্লকের মাঝেরপাড়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে শহিদুল ইসলাম। ওইদিন বিকেলে শহিদুল ইসলাম ও উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীরপাড়া গ্রামের বারেক, ফুরুক, মনু মাঝি, হাসেম, আবু ছৈয়দ, আবুল হোছন, শফিক আহমদ ও ওয়াজিদের মধ্যে বাড়াবাড়ি হয়েছে। ওইদিন স্থানীয় এ সকল লোক টেকপাড়া বেড়িবাঁধে ঘোরাফেরা করছিলেন। অপরদিকে শহিদুল ইসলামও টেকপাড়ায় চিংড়ি প্রজেক্টে কাজ করার সুবাদে বাসায় অবস্থান করছিলেন। বারেকসহ স্থানীয়রা কোন একটা বিষয় নিয়ে অহেতুক প্রশ্ন তুলে। এ সময় শহিদুল ইসলাম এদের ধমক দেন। তারা ধমক খেয়ে নুরীরপাড়ায় চলে যান। দ্বিতীয় দফায় আরও অধিক লোকজন নিয়ে একইদিন সন্ধ্যার দিকে টেকপাড়ায় গিয়ে শহিদুল ইসলামকে চিংড়ি ঘেরের বাসা থেকে মারধর করে ধরে নুরীরপাড়ায় নিয়ে আসে। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে সোপর্দ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে একটি অস্ত্র ও কার্তুজসহ পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পেকুয়া থানার এসআই মনছুর আলম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। যার নং-১/২০।

এদিকে অস্ত্রসহ আটকের ঘটনাকে ‘রহস্যজনক’ ও ‘নাটকীয়’ মনে করছেন উজানটিয়া ও বদরখালীর সচেতন মহল। তাদের মতে, শহিদুল ইসলামকে নিরস্ত্র ধরে নিয়ে পরবর্তীতে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

শহিদুল ইসলামের মা রেজিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে নিরাপরাধ। চিংড়ি ঘেরে চাকুরি করে আমার সংসার চালায়। তার বিরুদ্ধে জঘন্য কোন মামলা নেই। এটি অবিচার হয়েছে।

শহিদুল ইসলামের বোন সাবেকুন্নাহার ও তাহমিনা বলেন, আমার ভাই নির্দোষ। উজানটিয়ার মানুষ ভাইয়ের উপর প্রতিশোধ নিতে এভাবে অস্ত্র দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।

মাঝেরপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি মমতাজ আহমদ জানান, শহিদুল ইসলাম দিনমজুরি করে সংসার চালান। আসলে ছেলেটি ভদ্র ও নম্র চরিত্রের।

বদরখালী ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য শফিউল আলম বলেন, আমার জানা মতে শহিদুল ইসলাম সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিল না। আসলে জায়গা নিয়ে উজানটিয়া ও বদরখালীর কিছু মানুষের মধ্যে বিরোধ আছে।

পার্শ্ববর্তী চিংড়িঘেরের আজম উদ্দিন, শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল আলম, চাচা মনোয়ার আলম মনু জানান, এটি জঘন্যতম চক্রান্ত। প্রথমে হয়েছে বাড়াবাড়ি। এরপর দ্বিতীয় দফায় তারা এসে রাতে তাকে চিংড়ি ঘের থেকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করে।

তারা বলেন, আমরা নিশ্চিত অস্ত্রটি তারাই দিয়েছে। একজন দিনমজুরের উপর এটি চরম শত্রুতা ও জুলুমি। আইনের অবিচার হয়েছে। এমনকি একজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে পিটিয়ে অসহায় অবস্থায় অস্ত্র ও গুলিসহ পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!