প্রাণপণ চেষ্টায় আছেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

চীনে যখন ‘কোভিড ১৯’ নামে অদৃশ্য একটি ভাইরাস কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিল। শত শত মানুষ মারা পড়ছিল। ঠিক তখনই ২৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রাণকেদ্র কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল চিন্তা করলো কক্সবাজারেই যদি করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়ে জটিল অবস্থায় পড়ে, তখন তাদের কিভাবে চিকিৎসা দেয়া হবে? আবার এই জেলার উপর ভর করে বসে আছে আরও ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাও।

সংক্রমণ ছড়ানো এই রোগ যদি পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারেই ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা সামাল দিতে বেগ পেতে হবে অনেক কঠিন মুহুর্তেও। যদি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অবনতি হয় কোন রোগীর অবস্থা, তখন উন্নত চিকিৎসা জন্য ১১/১২ ঘন্টা পেরিয়ে গাড়িতে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে রোগীকে!

বর্তমান পৃথিবীজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো ‘কোভিড ১৯’ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীরের পরিস্থিতির অবনতি হলে ‘আইসিইউ’ ইউনিটের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গোটা কক্সবাজারের চিকিৎসা সেবায় একটিও অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ‘আইসিইউ’র ব্যবস্থা নেই। এই চিন্তা থেকেই জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন ইউএনএইচসিআরের সাথে যোগাযোগ করেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার এখনও অবকাঠামোগত জায়গায় অনেক পিছিয়ে। তাই কক্সবাজারকে এগিয়ে নিতে প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সহযোগিতায় ইউএনএইচসিআর বরাবর গত ২২ মার্চ একটি ‘রিকোয়েষ্ট’ লেটার পাঠান ডা. মহিউদ্দিন। সেই চিঠিতেই সাড়া পেয়ে যান তিনি।

করোনার এই কঠিন সময়ে মেডিকেলে ইকুয়েপমেন্ট দিতে উদ্যোগী হয় ইউএনএইচসিআর। সেই মতে প্রথমেই স্বয়ংসম্পূর্ণ ১০ বেডের আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) পূর্ণাঙ্গ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট এবং ১০ বেডের হায় ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) স্থাপনের কথা থাকলেও সাথে ১০টি ‘ভেন্টিলেটর’ দাবি নিয়ে আদায় করে নেন তিনি। যেখানে বিশেষ ধরণের শয্যা, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর, টিউব, পাম্প, হার্ট রেইট, ব্লাড প্রেসারসহ অন্যান্য শারিরিক পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক চিত্র পাবার মনিটরসহ নানা আধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম থাকবে।

কক্সবাজারবাসীর জন্য খুশির খবর হলো, এই মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবার এই সরঞ্জাম নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নিজেই।

তিনি জানান, মেডিকেলের ইকুয়েপমেন্ট আনতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বর্তমান করোনাভাইরাসের কারণে সমগ্র পৃথিবীই থমকে আছে। বন্ধ আছে সমস্ত পথ। তবুও ইতোমধ্যে কক্সবাজারেই ৪টি কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর চলে এসেছে। আরও ৬টি ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন আসলে চালু হয়ে যাবে পুরো ইউনিট। সবকিছু ঠিকটাক থাকলে এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে উদ্বোধন হবে এটি।

ডা. মহিউদ্দিন বলেন, আরআরআরসির সহযোগিতায় যখন ইউএনএইচসিআরের সাথে চুক্তি হয়, তখন স্বাক্ষর করতে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের। চলমান করোনা পরিস্থিতির কঠিন সময় হওয়াতে জরুরি ভিত্তিতে অনেকটা রিস্ক নিয়েই আমি স্বাক্ষর করে চুক্তি সম্পাদন করেছি।
ইউএনএইচসিআরের সাথে চুক্তি অনযায়ী করোনাভাইরাস যতদিন থাকবে ততদিন ডাক্তার থেকে শুরু করে সমস্ত ব্যয় বহন করবে তারা। যখন করোনা পরিস্থিতি শেষ হবে তখন সমস্ত ইকুইপমেন্ট রয়ে যাবে সদর হাসপাতালে। এখানেই সাধারণ জনগণ সেবা পাবেন।

তিনি মনে করেন, আলহামদু লিল্লাহ, কক্সবাজারের মানুষ আর কষ্ট পাবেন না। ঢাকায় গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করতে হবে না। করোনা আক্রান্ত কেউ খারাপ হলেই তারা এই বিশেষায়িত ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিবেন।

তিনি জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনা রোগিদের জন্য পুরো একটি ফ্ল্যাট দেয়া হয়েছে। ওইখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরাতন মেডিকেল কলেজ ভবনের ৫ম তলাতেই বসবে ‘আইসিইউ’ ও ‘এইচডিইউ’ ইউনিট। এই ইউনিট দু’টো চালাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সব ধরণের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাপোর্ট দেবেন। পুরো ইনস্টুমেন্ট দেখভাল করবেন সদর হাসপাতালের এডমিনিস্ট্রেশন। তবুও ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে ওখানে নির্ধারিত ২ জন সিনির কনসালটেন্ট ও ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট দেবে। যাদের আইসিইউতে ট্রেনিং আছে এমন ১০ জন ডাক্তারকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়াও ট্রেনিং আছে এমন ২৫ জন নার্সকেও নিয়োগ দেয়া হবে। মেডিকেল টেকনিশিয়ান ৩ জন, এম্ব্যুালেন্সের জন্য ড্রাইভার থাকবে ৩ জন, ওয়ার্ডবয় ১০ জন এবং ক্লিনার থাকবে ১০ জন। তাদের সমস্ত ব্যয় বহন করবে ইউএনএইচসিআর।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরও বলেন, সোমবার (৪ মে) বিডিজবে তাদের নিয়োগের সার্কুলার দেবে ইউএনএইচসিআর।

ডা. মহিউদ্দিন অত্যাধুনিক এই চিকিৎসা সেবায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে তিনি কক্সবাজারবাসীর এই দুর্যোগের কঠিন সময়ে পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য ইউএনএইচসিআর ও আরআরআরসিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!