Breaking

কক্সবাজার শহরের প্রথম করোনা রোগী এখন রামু আইসোলেশন সেন্টারে

কক্সবাজার শহরের প্রথম করোনা রোগী এখন রামু আইসোলেশন সেন্টারে

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার জেলা শহরে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগী আবুল কালামকে রামু স্পেশালাইজড আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) পৌণে ৮টায় ওই রোগীকে হাসপাতালে পৌছানো হয়।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়–য়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রামুর আইসোলেশন সেন্টারে এটিই প্রথম করোনা রোগী। ইতোপূর্বে কোন করোনা রোগী সেখানে নেয়া হয়নি।

ডা. নোবেল বড়–য়া জানান, রামু আইসোলেশন সেন্টারের মেডিকেল টিম ওই রোগীর চিকিৎসা শুরু করেছেন।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর কক্সবাজার জেলায় প্রথমবারের মতো রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা ভাবে ৫০ বেডের আইসোলেশন সেন্টারটি চালু করা হয়। আজকের আগপর্যন্ত কোন রোগী ওই সেন্টারে ভর্তি ছিল না।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২২ এপ্রিল) কক্সবাজার শহরে প্রথমবারের মতো করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তিনি হলেন শহরের টেকপাড়ার চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম (৫৫)। তিনি মাছ ব্যবসায়ী। মাছের চালানি নিয়ে প্রতিনিয়ত ঢাকায় যান। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে তিনি ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফেরেন।

যদিও আবুল কালাম মেডিকেল হিস্ট্রিতে তিনি ঢাকা থেকে ফেরার কথা অস্বীকার করেন। তিনি চিকিৎসকদের জানন, তিনি কক্সবাজারের বাইরে কোথাও যাননি।

এলাকাবাসিরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে স্বাস্থ্য বিভাগ মঙ্গলবার তার শরীরের স্যাম্পল সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠায়। বুধবার সেই স্যাম্পল টেষ্টের রিপোর্ট মেলে ‘পজিটিভ’।

আবুল কালামে পারিবারিক সুত্র জানিয়েছেন, আবুল কালাম সোমবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেন। তবে তার শরীরে অসুস্থতার কোন লক্ষণ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পরিবারের এক সদস্য জানান, আবুল কালামের শরীরে জ¦র, সর্দি, কাশি কিংবা অন্য কোন লক্ষণ নেই। তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

সুত্র মতে, আবুল কালাম ৫ মেয়ের বাবা। এদের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে। অন্য ৪ মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার বসবাস। এদের মধ্যে দুই মেয়ে আবার রোহিঙ্গা শিবিরে চাকুরি করেন।

এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান জানান, তারা করোনা রোগী আবুল কালামের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

তিনি জানান, ওই রোগীয় যদি লকডাউন অমান্য করেন তাহলে রামু হাসপাতালে স্থাপিত আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, আবুল কালামসহ এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। ইতোপূর্বে গত ১৯ এপ্রিল একদিনে ৪ জন করোনা রোগী পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে তিনজন ছিল মহেশখালী উপজেলার ও অন্যজন টেকনাফের বাসিন্দা।

তবে জেলায় শনাক্ত প্রতিজন রোগীই কক্সবাজারের বাইরে থেকে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার প্রথম রোগী সৌদি আরব থেকে ওমরাহফেরত, পরবর্তী চারজন ঢাকা ও নারায়নগঞ্জফেরত এবং সর্বশেষ কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার আবুল কালামও নারায়নগঞ্জফেরত।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়–য়া, কলেজের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোনিয়া আফরোজ ও ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করেছে। গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন, ১৬ এপ্রিল ৪১ জন, ১৭ এপ্রিল ৩৯ জন, ১৮ এপ্রিল ১৩ জন, ১৯ এপ্রিল ৬৩ জন, ২০ এপ্রিল ৫১ জন, ২১ এপ্রিল ৪০ জন ও ২২ এপ্রিল ৬৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা এখন ৫৬১ জন। এদের মধ্যে ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসে অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!