কক্সবাজারে ৩ বছর পর খুলছে জন্মনিবন্ধন

কক্সবাজারে ৩ বছর পর খুলছে জন্মনিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মিয়ানমার থেকে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কারণে বন্ধ হওয়ার প্রায় ৩ বছর পর কক্সবাজার জেলায় জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম আবারও শুরু হচ্ছে। তবে শর্তসাপেক্ষে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

রোববার (১২ জুলাই) অনলাইন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, প্রতি উপজেলায় টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে নতুন জন্মনিবন্ধন দেয়া হবে। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও) ওই টাস্কফোর্স কমিটির প্রধান থাকবেন। জন্মনিবন্ধন পেতে আগ্রহীরা ওই টাস্কফোর্স কমিটিতে আবেদন করবেন।

তিনি জানান, ওিই আবেদেন যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদকে আবেদনকারীর বরাবরে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করার জন্য টাস্কফোর্স কমিটি সুপারিশ করবে। তবে আবদেন যাচাই-বাছাইয়ে অসম্পূর্ণ কিংবা আবেদনকীর তথ্য সঠিক না হলে তা বাতিল করা হবে।

ডিসি কামাল হোসেন সভায় জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুতে যাতে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিতে না পারে, সে ব্যাপারেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী বা জন্মনিবন্ধন সনদ পাওয়ার অযোগ্য কাউকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়া হলে তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।

এছাড়াও সভায় বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুকূলে পাসপোর্ট ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সভায় অনলাইনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ শাজাহান আলিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান, প্রতিনিধি ও সদস্যরা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। তারা কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।

সুত্র মতে, অনুপ্রবেশকারি এসকল রোহিঙ্গা শরণার্থী বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে অপতৎপরতা শুরু করেন। ওই সময় সরকার কক্সবাজার জেলা ও তিন পার্বত্য জেলায় জম্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু বন্ধ করে দেয়। এই চার জেলায় জন্মনিবন্ধন সার্ভারও বন্ধ করে দেয়া হয়।

সেই থেকে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর জম্মনিবন্ধন কার্যক্রম সম্পুর্ণ বন্ধ ছিল।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!