কক্সবাজারে বিএনপি-যুবলীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারিতে উত্তেজনা

মহিউদ্দিন মাহী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে বিএনপি ও যুবলীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দিয়েছে। একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে রোববার রাতেই পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কারণে আইন শৃংখলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একদিকে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ ৩ জানুয়ারি জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে বিজয়ের মাইলফলক হিসেবে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন উপলক্ষে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কক্সবাজার জেলা শাখা।

দীর্ঘ একযুগ অফিস কেন্দ্রিক সভা-সমাবেশ করার পর এটিই হচ্ছে বিএনপির প্রথম জনসভা। এই জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করেছে জেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। তাই রোববারই বিএনপির প্রায় সব ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীরা চলে এসেছেন কক্সবাজার শহরে, এমনটিই দাবি করছেন নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে অনেকবার গেছি অনুমতির জন্য। প্রথমে আমাদের বাহারছড়ার গোলচত্বর মাঠে মৌখিক ভাবে অনুমতি দিয়েছিল, পরে তা বাতিল করে প্রশাসন। এরপর শহীদ সরণীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে জনসভার করার, তবুও আমরা জনসভা করে যাবো। এবারের মহাসমাবেশ হবে জনসমুদ্র।

জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী আশা করেন, জনসভা সুন্দর ও সু-শৃংখলভাবে শেষ হবে।

তাঁর মতে, মানুষ চায় বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যে বিএনপিসহ দেশবাসীর পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে সুচিকিৎসার দাবী জানানো হয়েছে। এই যৌক্তিক দাবী সরকার মানছে না। যা অমানবিক।

অন্যদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর বলছেন, ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন হিসেবে আমরা শহীদ সরণীতেই সমাবেশ করবো। ইতোমধ্যে পুরো শহরে মাইকিং করে প্রচার চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত কোন সিদ্ধান্ত দেয় তাহলে সেটি আমরা মানবো। যেহেতু সরকার দলীয় সংগঠনের দায়িত্বে আছি সেক্ষেত্রে প্রশাসনের যে কোন সিদ্ধান্ত মানতে হবে।

যুবলীগের দাবি, জেলা বিএনপির জনসমাবেশ করার ক্ষেত্রে নির্মাণাধীন শহীদ সরণী অবৈধ ভাবে ব্যবহার করছে। সড়কের উপর গাছের টেবিল বসিয়ে বানানো হয়েছে বিশাল মঞ্চ। যদিও এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। একটি নির্মাণাধীন সড়ক কখনো এভাবে ব্যবহার করতে পারে না।

গতকাল ২ জানুয়ারী সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচুর নেতাকর্মী উপস্থিত আছেন। সেখানে বিশাল আকারে মঞ্চ তৈরি করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দেখা গেছে।

ইতোমধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। রবিবার সকালে সমাবেশের সার্বিক বিষয় খোঁজ নেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবুর রহমান শামীম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

জেলা বিএনপি সুত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দাবীতে ৩ জানুয়ারি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বেলা ১টায় সমাবেশ করা হচ্ছে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম ও কেন্দ্রিয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল। বক্তব্য রাখবেন সাবেক সাংসদ আলমগীর মো: মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও সাবেক সাংসদ হাসিনা আহমদ।

এদিকে জেলা যুবলীগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, আজ ৩ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।

আরও বক্তব্য রাখবেন সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, সাংসদ জাফর আলম, সাংসদ কানিজ ফাতেমা, সাংসদ শাহিন আক্তার, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর, কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাইছারুল হক জুয়েল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মাহমুদুল করিম মাদু, যুগ্ন-আহবায়ক জসিম উদ্দিন, টিপু সুলতান, এড. রেজাউল করিম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান।

সভাপতিত্ব করবেন সোহেল আহমদ বাহাদুর ও সঞ্চালনা করবেন শহিদুল হক সোহেল।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!