কক্সবাজারে করোনায় ৩ দিনে এক রোহিঙ্গাসহ চারজনের মৃত্যু

দেশে ক‌রোনায় ৮৬ শতাংশ মৃত্যুই ঢাকা-চট্টগ্রামে

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে ৩ দিনে এক রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। সবশেষ বুধবার (২ জুন) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৭৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করেন শনাক্ত হয়েছেন ৯৭ জন। তাদের মধ্যে ২৯ জনই রোহিঙ্গা শরণার্থী।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন পর্যন্ত জেলায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪১৯ জনের শরীরে। করোনায় মারা গেছেন ১১২ জন। হোম আইসোলেশনে ৭৯৩ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ৩৯৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা নেয়াদের মধ্যে ২৪১ জনই রোহিঙ্গা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুন) একদিনে কক্সবাজার জেলায় ৯৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ফলোআপ রোগী হলেও ৯৬ জনই নতুন রোগী। যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী আছেন ২৯ জন। এছাড়াও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রোগী আছেন। ওই একজন বাদে কক্সবাজার জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫১৪ জনে।

এতে সংক্রমণ রোধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পুরো জেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণার দাবি উঠছে।

নতুন শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শাহীন মো. আবদুর রহমান চৌধুরী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইদানিং সংক্রমণ ও মৃত্যু দু’টোই বাড়ছে। সংক্রমণ রোধে রোহিঙ্গা শিবিরসহ পুরো জেলায় কঠোর লকডাউন দরকার।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অনুপম বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা থাকতো ৩ থেকে ৫ জনের মধ্যে। এখন দৈনিক ১১০ জনের বেশিও শনাক্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

অনুপম বড়ুয়া বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। কাজের জন্য রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে চলে যাচ্ছে, আবার ফিরে আসছে। এছাড়া শরণার্থীদের মানবিক সেবায় যুক্ত এনজিও কর্মীরা প্রতিদিন ক্যাম্পে যাওয়া-–আসা করছেন।

ডা. অনুপমের মতে, এনজিও কর্মীদের অনেকেই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে (কক্সবাজারের বাইরের জেলায়) গিয়েছিলেন, এখন ফিরে এসে ক্যাম্পে যাতায়াত করছেন। তাদের কারও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে।

তিনি মনে করেন, সংক্রমণ রোধ করতে হলে উখিয়া ও টেকনাফের পাশাপাশি ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে পৃথক রেড জোন ঘোষণা করা দরকার।

সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সংক্রমণ রোধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ উখিয়া ও টেকনাফ রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন দেয়া জরুরি। নাহলে পুরো জেলায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!