Breaking

কক্সবাজারে এবার ৯ বছরের শিশুর ‘করোনা’, উখিয়া ও চকরিয়ায় ৩ জনের ‘পজিটিভ’

কক্সবাজারে এবার ৯ বছরের শিশুর শরীরে ‘করোনা’, উখিয়া ও চকরিয়ায় ৩ জনের ‘পজিটিভ’

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মরণঘাতি করোনাভাইরাস যেন কক্সবাজারকে পিছু ছাড়ছেই না! প্রতিদিনই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবারও (২৯ এপ্রিল) নতুন তিনজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুইজন উখিয়া ও একজন চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন।

উখিয়া উপজেলার দুইজন রোগীই রাজাপালং ইউনিয়নের হাজী পাড়া গ্রামের। আর চকরিয়ার রোগী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের। তাদের নাম এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে উখিয়ার দুইজনের মধ্যে ৯ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৭ এপ্রিল শনাক্ত হওয়ার উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের শনাক্ত হওয়া নারী রোগীর নিকটাত্মীয় হলেন আজকের শনাক্ত হওয়া দুইজন। একই সাথে চকরিয়ার নতুন শনাক্ত রোগীও আগের রোগীর নিকটাত্মীয়।

সুত্র মতে, কক্সবাজার জেলায় এতদিন জেলার বাইরে থেকে আসা মানুষের মাঝে করোনা সংক্রমিত হয়েছিল। এখন সেই ধারাবাহিকতা পাল্টে গেছে। এখন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যদের মাঝে সংক্রমিত হচ্ছে।

এ নিয়ে গত ২৯ দিনে কক্সবাজার জেলা ও প্রতিবেশী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই ক’দিনে এক হাজার ১২৬ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা টেষ্ট করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নেগেটিভ এসেছে এক হাজার একজন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া, কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির ও কলেজের প্রধান ল্যাব টেকনোলজিষ্ট এটিএম মাইনুল এহসান চৌধুরী।

সুত্র মতে, বুধবার পর্যন্ত করোনা ‘পজিটিভ’ পাওয়া রোগীদের মধ্যে কক্সবাজার শহরের দুইজন, মহেশখালীর ১০ জন, টেকনাফের ৪ জন, উখিয়ার ৪ জন, চকরিয়ার দুইজন ও রামুর একজন এবং পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দুইজন রয়েছেন। এছাড়াও কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগীর টেষ্ট হয়েছিল ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে। ওই রোগীসহ কক্সবাজার জেলায় ২১ জন ও নাইক্ষ্যংছড়িতে দুইজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজারে চকরিয়ার খুটাখালী এলাকার প্রথম রোগী ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রথম রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সুত্র মতে, এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রত্যেকেই জেলার বাইরে থেকে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই এসেছেন ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা। এদের মধ্যে দুইজন মাছ ব্যবসায়ী, একজন আম ব্যবসায়ী, দুইজন তাবলীগফেরত এবং একজন গার্মেন্ট কর্মীও রয়েছেন। তবে টেকনাফের এক নারী চিকিৎসক উপজেলা হাসপাতালে রোগীর সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের মাধ্যমে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া ও ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির জানান, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরসহ জেলার উপজেলা ও পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ফ্ল্যু সেন্টার থেকে ৯৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এগুলো টেষ্ট শেষে ৩ জনের করোনা ‘পজিটিভ’ পাওয়া যায়। অন্য ৯২ জনের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজার ল্যাবে প্রতিদিন ৯৬ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও উপজেলা পর্যায় পর্যাপ্ত পরিমাণ নমুনা আসছে না। তবে এখন অনেক বেশি নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) একদিনে সর্বাধিক ১২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ বুধবার হয়েছে ৯৫ জন।

তিনি জানান, বুধবারের ৯৫টি নমুনারই পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকেই আনুষ্টানিক ভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করেছে। গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন, ১৬ এপ্রিল ৪১ জন, ১৭ এপ্রিল ৩৯ জন, ১৮ এপ্রিল ১৩ জন, ১৯ এপ্রিল ৬৩ জন, ২০ এপ্রিল ৫১ জন, ২১ এপ্রিল ৪০ জন, ২২ এপ্রিল ৬৪ জন, ২৩ এপ্রিল ৫৩ জন, ২৪ জন ১০১ জন, ২৫ এপ্রিল ১৮ জন, ২৬ এপ্রিল ১০০ জন, ২৭ এপ্রিল ১২২ জন, ২৮ এপ্রিল ৭৬ ও ২৯ এপ্রিল ৯৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা এখন এক হাজার ১২৬ জন। এদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

জেলার প্রথম করোনা রোগীর টেষ্ট হয়েছিল ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে। এই রোগীসহ জেলায় ২৫ জন ও নাইক্ষ্যংছড়িতে দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কক্সবাজারের প্রথম রোগী ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রথম রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!