কক্সবাজারের মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ করল ‘বখাটে’ গৃহশিক্ষক পেকুয়ায়

আশুলিয়ায় অপহৃত ছাত্রী ৬ দিন পর কক্সবাজারে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় কক্সবাজার শহরের দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী অপহৃত হয়েছে। ৬ দিন ধরে অপহৃতা ওই মাদ্রাসা ছাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। বাবা ও স্বজনরা নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার পেতে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ থাকায় অপহৃত ছাত্রীর পরিবারে উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত ৫ জুন বিকেল ৩টার দিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা থেকে ওই ছাত্রী অপহৃত হয়েছে।

অপহৃত ছাত্রীর নাম নাজমা খানম জেসী (১৪)। মেয়েটি কক্সবাজার আদর্শ বালিকা মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়ার বাসিন্দা ও নাজিম ফুড প্রোডাক্টসের স্বত্তাধিকারী।

এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আজম কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত চলছে।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকেলের দিকে নাজিম ফুড প্রোডাক্টসের স্বত্তাধিকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নাজমা খানম জেসীকে (১৪) অপহরণ করা হয়েছে। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়ার ইসলামাবাদ এলাকার আবদু রশিদের ছেলে ইয়াসির আরাফাতসহ (২৫) ৩/৪ জনের অপহরণকারি চক্র ওইদিন বিকেলের দিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা থেকে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায়।

ছাত্রীর বাবা ব্যবসার সুবাদে পেকুয়ায় কারখানা ও বাসা ভাড়ায় থাকেন। তবে পূর্ব থেকে অপহরণকারি ইয়াসির আরাফাত ও নাজিম উদ্দিনের পরিবারের মধ্যে পরিচিতি ছিল। নাজমা খানম জেসীর প্রাইভেট শিক্ষক ছিলেন ইয়াসির আরাফাত। পড়ার সময় ওই ছাত্রীকে প্রায় সময় কু-প্রস্তাবসহ ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি ওই ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ নানান ধরণের ইভটিজিং করতো।

ঘটনার দিন বিকেলে ইয়াসির আরাফাত কক্সবাজার থেকে তার কয়েকজন অনুগত লোককে নিয়ে জেসীদের ভাড়া বাসার আশপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় ওই ছাত্রীর গতিবিধি লক্ষ্য করে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা ইয়াসির আরাফাতসহ ৩/৪ জনের চিহ্নিত চক্র দশম শ্রেণীর ছাত্রী জেসীকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাতস্থানের দিকে নিয়ে যায়।

নাজমা খানম জেসীর বাবা কক্সবাজার ঝিলংজার মৃত মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে ও পেকুয়ায় নাজিম ফুড প্রোডাক্টসের মালিক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, আমার মেয়েকে ইয়াসির আরাফাত নামক ওই বখাটে অপহরণ করেছে। সে মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো। তার গতিবিধি ও উদ্দেশ্য কু-দৃষ্টি ছিল। আমি মেয়েকে প্রাইভেট পড়া থেকে বিরত রাখি। এমনকি একবার আমার ছোট মেয়েটিকে যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করায় আমি তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় চলতি বছরের ৩০ মে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেখানকার পুলিশ ইভটিজিং সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেয়েছিল। তার বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৫ জুন বিকেল ৩টার দিকে তারা আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ইয়াসির আরাফাতের বাবা আবদুর রশিদ ও মা রেহেনা বেগমকে তার ছেলে সম্পর্কে বলেছি। এমনকি আমার ছোট্ট মেয়ের জীবন বিপন্ন না করতে ছেলেকে বারণ করতে বলেছি। তবুও তারা বখাটে ছেলেকে আমার মেয়েকে বিয়ে করাতে বারবার প্রেরণা যুগিয়েছে ছেলেকে। আমার অর্থ বিত্তের উপর ছেলে ও মা-বাবার লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। এরই সুত্র ধরে এই কান্ড ঘটিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ৩ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারও তারা আমাদের অনুপস্থিতিতে ভাড়া বাসা থেকে নিয়ে গেছে।

জেসীর মা শাহীন আক্তার কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, আমার গর্বের ধনকে তারা নিয়ে গেছে। আমি তো ব্যাকুল হয়ে গেছি। মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক। মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। নিশ্চিত তাকে অপহরণ করেছে। এখন কোথায় আছে, কি করছে, কোন অবস্থায় আছে সেটি জানা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমি প্রশাসনের কাছে আন্তরিক হস্তক্ষেপ চাই। আমার মেয়েকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। বিয়ের নামে কোন প্রতারণা আমরা মানতে রাজি নই।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!