‘এবি পার্টি’তে কক্সবাজারের ৯ নেতা, জাহাঙ্গীর কাশেম হলেন যুগ্ম আহবায়ক

‘এবি পার্টি’তে কক্সবাজারের ৯ নেতা, জাহাঙ্গীর কাশেম হলেন যুগ্ম আহবায়ক

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

জামায়াতে ইসলামি থেকে বেরিয়ে আসা ও বহিস্কৃত নেতাদের নিয়ে গড়া নতুন রাজনৈতিক দল ‘এবি পার্টি’ বা আমার বাংলাদেশ পার্টি শনিবার (২ মে) আনুষ্ঠানিক যাত্রা করেছে। যতটুকু জানা যাচ্ছে, এই রাজনৈতিক দলটির ‘তাত্ত্বিক’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকবে ‘জন আকাংখার বাংলাদেশ’। নতুন এই দলটির ২২২ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় নির্বাহী কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

এই আহবায়ক কমিটিতে পর্যটন জেলা কক্সবাজার থেকে সর্বাধিক ৯ জন নেতা স্থান করে নিয়েছেন। এদের মধ্যে য্গ্মু আহবায়ক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন আশির দশকের দাপুটে ছাত্র শিবির নেতা জাহাঙ্গীর কাশেম, যিনি কক্সবাজারে জামায়াতে ইসলামির রাজনীতিতে নেতা-কর্মীদের কাছে একটি ‘ফ্লেভার’ হিসেবে নিজের অবস্থান করে নিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, এই কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক ছাড়াও কক্সবাজার জেলা থেকে দুইজন সহকারি সদস্য সচিব এবং ৬ জন নির্বাহী সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কোন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কক্সবাজার জেলা থেকে স্থান পাওয়া সর্বাধিক সংখ্যক নেতার রেকর্ড।

যুগ্ম আহবায়ক ছাড়া এই কমিটিতে কক্সবাজার জেলা থেকে স্থান পেয়েছেন দুই সহকারি সদস্য সচিব এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার ও সারওয়ার আলম, ৬ জন নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, এডভোকেট এনামুল হক সিকদার, এডভোকেট নুরুল ইসলাম, সৈয়দ করিম, আবদুর রহমান ও অধ্যাপক এম এ ওয়াহেদ।

ওরা ৯ জন কারা
আমার বাংলাদেশ পার্টি বা এবি পার্টিতে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে জায়গা পাওয়া জাহাঙ্গীর কাশেম কক্সবাজার শহরের অত্যন্ত পরিচিত একটি মুখ। আরেক আলোচিত বিএনপি নেতা কাশেম মাষ্টারের ছেলে জাহাঙ্গীর কাশেম বাবার গড়া আল্লাহওয়ালা হ্যাচারির কর্ণধার ও শিল্পপতি। তিনি ছিলেন আশির দশকে চট্টগ্রামের রাজপথ কাঁপানো একজন ছাত্র শিবির নেতা। জীবনের কখনওই ছাত্র শিবির কিংবা জামায়াতে ইসলামির বড় কোন পদে ছিলেন না, তবে তিনি ছিলেন সবসময় আলোচনায়। ছাত্রজীবন শেষ করে কক্সবাজারে ফিরে আসার পর তিনি হয়ে উঠেন জামায়াতে ইসলামির একজন ‘ফ্লেভার’ নেতা। তিনি সরাসরি জামায়াতে ইসলামির পদবিতে না থাকলেও তাকে ঘিরেই অনেককিছু আবর্তিত হতো। অনেক তরুণ জামায়াত নেতা তাকে ঘিরেই একটি বলয় তৈরি করে নিয়েছিলেন। তাই কক্সবাজারে জামায়াতে ইসলামি অলিখিত একটি প্রভাব ছিল সবসময়ই।

তবে জাহাঙ্গীর কাশেম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন গুলোতে প্রতিটিতেই জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সহকারি সদস্য সচিব পদে জায়গা পাওয়া দুইজনের মধ্যে এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার জামায়াতে ইসলামিতে উল্লেখ করার মতো কোন পদে না থাকলেও ছাত্রজীবনে কক্সবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি তখন থেকে এখন পর্যন্ত প্রভাব প্রলয় নিয়ে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছেন। এখনও সবাই তাকে জামায়াতে ইসলামির নেতা হিসেবেই জানেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেল থেকে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আর আরেক সহকারি সদস্য সচিব সরওয়ার আলম একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ি। ছাত্রজীবনটা বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে দেশে ফিরে সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বাবার ব্যবসায় পরিচালনা করতেন। বাবার মৃত্যুর পর বাবার গড়া সবধরণের ব্যবসায়ের অন্যতম কর্ণধার তিনি।

এছাড়াও নির্বাহী সদস্য পদে স্থান পাওয়া ৬ জনের মধ্যে শামসুল হক শারেক ছাত্রজীবনে ইসলামি ছাত্রশিবিরের কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে জামায়াতে ইসলামির রাজনীতির সাথে না জড়ালেও বর্তমানে তিনি সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্টিত। তিনি বর্তমানে দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি।

আরেক সদস্য এডভোকেট এনামুল হক সিকদার ছিলেন কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে (ককসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির থেকে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস), এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম চট্টগ্রাম কলেজ ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রশিবির সভাপতি, সৈয়দ করিম একই কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির থেকে নির্বাচিত টানা দুইবারের সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। তবে অন্য দুইজন সদস্যের মধ্যে আবদুর রহমান একজন পাক্কা ব্যবসায়ি ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা আর চকরিয়ার অধিবাসি অধ্যাপক এম এ ওয়াহেদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি।

এদের মধ্যে এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার ও এডভোকেট এনামুল হক সিকদারও জামায়াতে ইসলামির নির্বাচনী কমিটিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!