এবার আত্মসমর্পণ করলেন ২১ মাদক কারবারি, ‘দেশের টাকায় আসছে মিয়ানমারের ইয়াবা’!

এবার আত্মসমর্পণ করলেন ২১ মাদক কারবারি, ‘দেশের টাকায় আসছে মিয়ানমারের ইয়াবা’!

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা নিজ মুখে স্বীকার করে আবারও ‘অন্ধকার জগৎ থেকে স্বাভাবিক জীবনে’ ফিরে এসেছেন ২১ জন মাদক কারবারী।

এই মাদক কারবারীরা ৩ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে ২১ হাজার ইয়াবা, ১০টি অস্ত্র, ৩০ রাউন্ড গুলি নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে পুলিশ সুত্র দাবি করেছে।

৩ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) বিকাল ৩টার দিকে জেলা পুলিশের আয়োজনে টেকনাফ সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ ও মাদক কারবারীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্টানে এসব তথ্য জানানো হয়।

আত্মসমর্পণকারি ২১ জন ইয়াবা কারবারী হচ্ছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকার আবুল কালাম ওরফে কালা সওদাগর (৪৯), মো. রিদোয়ান (২২), আব্দুর রাজ্জাক (৩০), আব্দুল আমিন ওরফে আবুল (৩৯), বশির আহম্মদ (৪০), মো. রাশেল ওরফে রাশেল (২৯), ফজল করিম (২৬), উত্তর লম্বরী এলাকার মো. তৈয়ুব ওরফে মধু তৈয়ব (৩৮), মাঠ পাড়া বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মো. জাহেদ উল্লাহ (২৪), সাবরাং ইউনিয়নের লেজির পাড়া এলাকার মো. ইদ্রিস (৫৭), খয়রাতি পাড়ার মো. সাদ্দাম (২৭), সিকদার পাড়া এলাকার আব্দুল গফুর (২৬), মো. হোসেন ওরফে কালু (২৭), টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার মো. ইসমাইল (৩১), পুরাতন পল্লান পাড়ার আব্দুল নুর (৩৯), হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার নূর মোহাম্মদ (২৮), সিকদার পাড়া এলাকার ইমাম হোসেন (৩০), উলুচামারী কোনার পাড়া এলাকার মিজানুর রহমান (২৩), হোয়াইক্যং ইউনিয়ন উত্তর পাড়া এলাকার ফরিদ আলম (৪৮), মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার শাহাদত হোসাইন (২৮) ও কক্সবাজারের ঝিলংজা পশ্চিম লারপাড়া এলাকার ইমাম হোসেন (৪৩)।

অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, মাদক পাচার অব্যাহত থাকার কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। আর সেই টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আসছে মরণনেশা ইয়াবা। এই ইয়াবা সেবন করে দিনের পর দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেশের যুব সমাজ।

তিনি বলেন, যারা এখনও দেশের টাকা অবৈধভাবে পাচার করে মাদক পাচার অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। মাদকবিরোধী চলমান এই অভিযান থেকে কেউ রেহাই পাবেন না।

তার মতে, ফিলিপাইনে মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে গিয়ে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তার তুলনায় এখানে খুবই নগন্য। জঙ্গি, সন্ত্রাস, দূর্নীতিবাজদের মতো আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে।

এবার আত্মসমর্পণ করলেন ২১ মাদক কারবারি, ‘দেশের টাকায় আসছে মিয়ানমারের ইয়াবা’!

সভাপতির বক্তৃতায় জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পাওয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করা হয়। ওই অভিযানে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে ২৮০ জন মাদক কারবারী নিহত হয়েছেন। আমরা আর কোন মায়ের বুক খালি হোক বা কোন স্ত্রী বিধবা হোক তা চাই না।

ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের কোন সদস্যদের কোন আত্বীয়-স্বজন যদি মাদক কারবারে জড়িত থাকেন তারাও পুলিশের অভিযান থেকে রেহাই পাবে না।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কমিউনিটি পুলিশিং জেলা সভাপতি এডভোকেট তোফায়েল আহমদ, সাধারন সম্পাদক সোহেল আহমদ বাহাদুর, পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও টেকনাফ কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি নুরুল হুদা ও মুফতি কেফায়েত উল্লাহ শফিক।

এদিকে আত্মসমর্পণকারি মোঃ তৈয়ব ওরফে মধু তৈয়ব বলেন, অল্পদিনে কোটিপতি হওয়ার জন্য মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়েছিলাম। কিন্তু এই মাদক ব্যবসা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আমার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। কারণ পুলিশ কঠোর অভিযান থেকে বাঁচতে এদিক ওদিক পালিয়ে বেড়িয়েছি। এমনকি ঈদের নামাজও পড়তে পারিনি। অবশেষে এই অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসার জন্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তথ্য সুত্র জানায়, টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল (সোমবার) ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জাঁহালিয়া পাড়া মালির-মার ছড়া পাহাড়ী এলাকায় অভিযানে গেলে মাদক কারবারে জড়িত একদল অপরাধী হাত উঠিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পরে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা কারবারিরা ২১ হাজার ইয়াবা, ১০টি অস্ত্র ও ৩০টি কার্তুজ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রুজু করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মাদক ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যামে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!