এড. ছালামতুল্লাহর জীবন ও কর্ম

এড. ছালামতুল্লাহর জীবন ও কর্ম

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্টাতা, ইসলামি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক আমীর এবং কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বারবার নির্বাচিত সাবেক সভাপতি এডভোকেট ছালামতুল্লাহ রোববার (৬ জুন) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।

কক্সবাজার জেলার প্রবীণ এই আইনজীবী ও সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী ব্যক্তি, রাজনীতি ও কর্মজীবনে কেমন ছিলেন, কী ছিল তাঁর মিশন-ভিশন সেসবই অনেকে জানতে চাইছেন। কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য এই ক্ষণজন্মা মানুষটি জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

জন্ম ও শিক্ষা
ক্ষণজন্মা ও মহান সত্যব্রতী পুরুষ এডভোকেট ছালামতুল্লাহ ১৯৩৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বাহারছড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৫ সালে কক্সবাজার হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। অতঃপর ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে আই.এ এবং ঢাকা সলিমুল্লাহ কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্কুলজীবনে তিনি ফুটবল খেলা ও স্কাউটিং-এ সুনাম অর্জন করেন। ১৯৫৩ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় স্কাউট্স জাম্বুরিতে কক্সবাজার হাইস্কুল থেকে গ্রুপলিডার হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

পেশা ও রাজনীতি
এডভোকেট ছালামতুল্লাহ ১৯৬৫ সালে কক্সবাজার কোর্টে আইনপেশা শুরু করেন। তখন থেকে তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সাংবাদিকতার সাথেও জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), এসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি), ডেইলি অবজারভার, জনপদ প্রভৃতি পত্রিকার কক্সবাজার প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন। কক্সবাজার জেলায় সাংবাদিকতার বিকাশ এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাব গঠনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে কক্সবাজারে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কক্সবাজার শাখা ও প্রেসক্লাব গঠিত হয়। তিনি দীর্ঘদিন তদানিন্তন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত আছেন। তিনি তৎকালীন কক্সবাজার মহকুমা মুসলিম ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। এছাড়াও তিনবার কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

এডভোকেট ছালামতুল্লাহ কক্সবাজার ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কক্সবাজার জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘকাল যাবৎ কক্সবাজার জেলার স্কাউটস্ কমিশনার ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস্, কক্সবাজার জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি।

এছাড়াও কক্সবাজার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য তিনি। তদানিন্তন কক্সবাজার মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন ছালামতুল্লাহ।

এডভোকেট ছালামতুল্লাহ কক্সবাজার ইসলামিয়া বালিকা কামিল মাদ্রাসা, কক্সবাজার আইন কলেজ, কক্সবাজার মহিলা কলেজ, কক্সবাজার সিটি কলেজ, কক্সবাজার আলহেরা একাডেমী এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজসহ অনেকগুলো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘদিন কক্সবাজার আইন কলেজের ইসলামী আইনের অধ্যাপক এবং ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি কক্সবাজার জেলার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। কক্সবাজারের সাহিত্য বিকাশেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর আজীবন সদস্য। কক্সবাজারের নবীণদের লিখা প্রথম হাতেলেখা সাহিত্য পত্রিকা তাঁরই উদ্যোগে প্রকাশিত হয়। তিনি তৎকালিন কলকাতার ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার ছোটদের বিভাগে লিখতেন।

১৯৯৬ সালে এডভোকেট ছালামতুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভিজিটর্স প্রোগ্রামে (International Visitor Program) যোগদান করেন। উল্লেখ্য, এই প্রোগ্রামে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৫২), মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদত (১৯৬১), পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট গোলাম ইসহাক খান (১৯৪৯), শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রানা সিংহ প্রেমাদাসা (১৯৬৬) এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দীরা গান্ধী (১৯৬১) অংশগ্রহণ করেন।

আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, ক্যালিফোর্নিয়া, কলম্বিয়া, বার্লিংটন, ফ্রিপোর্ট, স্যানডিয়াগো, শিকাগোসহ বিভিন্ন শহর ও অঞ্চল সফর করেন।

তিনি ১৯৯৯ সালে মক্কাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রাবেতা আল-আলমে ইসলামী’ কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে ওই সংস্থার অতিথি হিসেবে পবিত্র হজ্জ্ব পালন করেন এবং দেশে ফেরার সময় আরব আমীরাতের বাংলাদেশ সমিতি ও ইসলামিক সেন্টারের সদস্যদের আমন্ত্রণে আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবী, দুবাইসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র : এডভোকেট ছালামতুল্লাহর লেখা ‘আমেরিকা ও আমেরিকার দিনগুলো’।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!