এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেও তিনি জামায়াতের আমীর!

‘ম্যানগ্রোভ এসেটস লিঃ’ নামের একটি বেসরকারী কোম্পানির এমডি পদে দায়িত্বে থাকাকালীন নিয়মবহির্ভূতভাবে কোম্পানির এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ প্রমাণিত হওয়ায় কোম্পানি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন চকরিয়া দক্ষিণ উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামের আমীর মোজাম্মেল হক।

এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাত করেও তিনি এখনও জামায়াতের উপজেলা আমীর ও রুকুন পদে বহাল আছেন বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলে এ রকম ‘দুর্নীতিবাজ’ লোক কিভাবে নেতৃত্বে থাকতে পারে এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।

জানা যায়, ‘ম্যানগ্রোভ এসেটস লিঃ’ নামের চকরিয়াভিত্তিক একটি বেসরকারী কোম্পানির এমডি পদে ছিলেন চকরিয়া দক্ষিণ উপজেলা শাখা জামায়াতের আমীর ও সাবেক শিবির নেতা মোজাম্মেল হক। এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। বিগত কয়েক বছরের নীরিক্ষা রিপোর্ট মতে, মোজাম্মেল হক কোম্পানির এমডির ক্ষমতা ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে আত্মসাৎ করে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এই কারণে তাকে কোম্পানির এমডি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জামায়াতের জেলা পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠা মোজাম্মেল হক আসন্ন ইউপি নির্বাচনের আগে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা জামায়াতের একজন নেতার প্রশ্রয়ে মোজাম্মেল হক বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি এতটা বেপরোয়া ছিলেন যে, ২০১৯ সালে নিজ দলীয় নেতা পেকুয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জুকে অপহরণ করে জোরপূর্বক স্টাম্প নেন। ওই সন্ত্রাসী ঘটনার মামলার ১নং আসামী হন মোজাম্মেল হক। পরবর্তীতে জামায়াত নেতাদের মধ্যস্থতায় বড় অংকের টাকার বিনিময়ে আপোস করেন তিনি।

জানা যায়, আসন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন চলছে। ওই নতুন কমিটিতে মোজাম্মেল হক আরো বড় পদ পেতে লবিং শুরু করেন। পদ পেতে কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলার কয়েকজন জামায়াত নেতার মাধ্যমে মোজাম্মেল হক লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মতো একজন ‘দুর্নীতিবাজ’কে আবারো জামায়াতের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেয়া হতে পারে এমন খবরে চকরিয়া জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

বিষয়টি নিয়ে ওই কোম্পানির লোকজন সাবেক জেলা আমীর মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে নালিশ করেও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন। তাই কোম্পানির শেয়ার হোল্ডাররা আদালতের আশ্রয় নিতে যাচ্ছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!