ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামানের মা ‘রত্নগর্ভা’ রিজিয়া আহমদ আর নেই

ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামানের মা ‘রত্নগর্ভা’ রিজিয়া আহমদ আর নেই

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পাকিস্তানের তৎকালিন চুন্ডিগড় সরকারের কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী, ঢাকসু’র সাবেক ভিপি ও ভাষা আন্দোলনের অগ্রনায়ক মৌলভী ফরিদ আহমদের সহধর্মিনী, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ও ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানের রত্নগর্ভা মা রিজিয়া আহমদ আর নেই। তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোর ৫টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রিজিয়া আহমদের ছোট ছেলে, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ বৃহস্পতিবার বাদে জোহর গুলশান জামে মসজিদে (গুলশান-১, এইচএসবিসি ব্যাংকের পাশে, পিজা হাটের উল্টো দিকে) নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সবাইকে জানাযায় অংশ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। পরে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মৃত্যুকালে রিজিয়া আহমদের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি ৩ ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য নাতি-নাতনী, আত্মীয় পরিজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মেজো ছেলে ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান মায়ের বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েকদিন আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। সেই হাসপাতালেই তিনি মারা গেলেন।

হাসপাতালে ভর্তির পর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান মায়ের অসুস্থতা নিয়ে এক আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছিলেন। তিনি বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আম্মার জীবনটা পেন্ডুলামের মত আশা নিরাশায় দৌদুল্যমান। এই বলে ভালোর দিকে, এই বলে খারাপ। আজ ৫ দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে। এখন হার্টের অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল।’

সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, তাঁর মায়ের বয়স এখন ৯০ বছরের উপরে। এতদিন ধকল সামলে কিছুটা ভালোর দিকে ছিল। আজ আবার সব আশা ধূসর হয়ে গেল। ডাক্তাররা কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।

মিডিয়ায় প্রকাশে পাঠানো ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানের সেই বিবৃতিটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

‘আসসালামু আলাইকুম। সবই আল্লাহর ইচ্ছে। আম্মার জীবনটা পেন্ডুলামের মত আশা নিরাশায় দৌদল্যমান। এই বলে ভালোর দিকে, এই বলে খারাপ। আজকে লাইফ সাপোর্টে ৫ দিন। এখন হার্টের অবস্থা ক্রিটিক্যাল।

৯০ বছরের উপরে আম্মার বয়স। এতদিন ধকল সামলে কিছুটা ভালোর দিকে ছিল। আজ আবার সব আশা ধূসর হয়ে গেল। ডাক্তারা কোন কারন খুঁজে পাচ্ছেন না।

আল্লাহ তুমি আম্মার কষ্ট লাঘব করে দাও, সিফা দান কর, নেক হায়াত দান কর। আমাদের মধ্যে সুস্থ করে ফিরিয়ে দাও।

সবার কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত নিবেদন, আপনারা খাস দিলে আম্মার জন্য দোয়া করবেন।’

প্রসঙ্গত, জমিদার পরিবারের মেয়ে রিজিয়া আহমদের ৪ ছেলে ও এক মেয়ে। প্রথম ছেলে মোহাম্মদ হারুনুজ্জামান নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী, তিনি আমেরিকা প্রবাসী। দ্বিতীয় ছেলে এডভোকেট মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হাইকোর্টের আইনজীবী। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জনতার মাঝেই মৃত্যুবরণ করেন। তৃতীয় ছেলে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষক। তিনি রয়েছেন অষ্ট্রেলিয়ায়। ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বুয়েট থেকে পাস করা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। একমাত্র মেয়ে জাকিয়া আনাম, যিনি সবার কাছে বেবী আপা নামেই পরিচিত, তিনি একজন মনোবিজ্ঞানী। তাঁর স্বামী মাহবুব আনাম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও ক্রিকেট কমিটির প্রধান।

১৯৭১ সালে তৎকালিন নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মৌলভী ফরিদ আহমদের মৃত্যুর পর ৫ সন্তানকে অত্যন্ত দুঃসময় মোকাবেলা করে মানুষ করেছেন রিজিয়া আহমদ। তাঁর প্রতিটি সন্তানই আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্টিত। এজন্য তিনি রতœগর্ভা জননী হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছেন।

রিজিয়া আহমদ এমন একজন রমণী যিনি অত্যন্ত দূরদর্শী ও স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন। একজন মানুষের সাথে তাঁর পরিচয় হলে তাকে কখনও ভুলে যান না। যিনি অত্যন্ত আন্তরিক একজন মহিলা। তাঁর সন্তানদের মাঝেও এই গুণ গুলো দেখা যায়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!