ইউপি নির্বাচনেও ‘নিরঙ্কুশ জয়’ হবে আ.লীগের!

ইউপি নির্বাচনেও ‘নিরঙ্কুশ জয়’ হবে আ.লীগের!

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

চলতি মাস থেকে ধাপে ধাপে শুরু হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এতে অংশ নেবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নিয়ে নানা প্রকারের শঙ্কা থাকলেও দলটির কেন্দ্র ইউপি নির্বাচন নিয়ে মোটেও বাড়তি ভাবনায় নেই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, অতীতের চেয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের অবস্থা বেশ ভালো। করোনাকালে মানুষের পাশে থাকায় এ ভিত আরও মজবুত হয়েছে। যে কোনো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।

অবশ্য তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নানা কারণে সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত। বিএনপি ঘোষণা দিয়ে মাঠে না থাকলেও আওয়ামী লীগের বিভাজনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে তারা।

তৃণমূলের একটি অংশ বলছে, টানা দুইবছর সাংগঠনিকভাবে বেহালদশায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নৌকার প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশের চলে আসা দ্বন্দ্ব-সংঘাত, গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ মনোনীতদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে প্রাণহানি এবং ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৃণমূলের এই বেহালদশাকে স্পষ্ট করেছে।

হাইকমান্ড চাইলেও করোনাসহ নানা কারণে সম্মেলন, কমিটি গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন করা যায়নি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল; বিভিন্ন জায়গায় মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বা শূন্যপদ নিয়েই চলছে সংগঠন। সেজন্য দূরত্ব বেড়েছে নেতা-কর্মীদের মাঝে। তারপরও ক্ষমতাসীন দলটির বিশ্বাস, অন্যদের তুলনায় তারাই বেশি শক্তিশালী। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় হবে আওয়ামী লীগেরই।

নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া নির্বাচনগুলো ধাপে ধাপে শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউপি ও ১১টি পৌরসভায় আগামি ২১ জুন ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তারা তাদের পূর্ব প্রস্তুতির ওপর ভরসা করেই নির্বাচন করবেন। এ নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তুতির দরকার হবে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগের মূল শক্তি জনগণ। নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য আওয়ামী লীগের পূর্ব কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না, সব সময় প্রস্তুত থাকে। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে, নির্বাচনই একমাত্র পথ যার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তাদের পাশে থেকে সেবা করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। সে কারণে আমরা নির্বাচনে অংশ নেয়াকে একটা রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। আমরা প্রস্তুত আছি। নির্বাচন কমিশন যখনই যৌক্তিক মনে করবে এবং তফসিল ঘোষণা করবে, আওয়ামী লীগ তাতে অংশ নেবে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে এই দুর্যোগে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন ও সাংগঠনিক কাজ দুটোই সমান্তরাল ভাবে করেছে, যে কারণে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘করোনা প্রথাগত রাজনীতির সুযোগ সংকুচিত করেছে, কিন্তু মানবসেবার অপার সুযোগ দিয়েছে। আমাদের তৃণমূল কর্মীরা করোনাকালে মানুষের পাশে ছিলেন বিধায় সাম্প্রতিক যে কোনো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। শুধু মনোনয়নের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন জনসেবক তৃণমূল নেতারা মনোনয়ন পান, কোনো জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি যেন কোনো ফাঁক গলে মনোনয়ন না পান।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কোনো নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুত। সেটা সংসদ হোক বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন হোক। সব সময় নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি থাকে। গত স্থগিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। মনোনয়ন পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। সেখানে আবার যখনই নির্বাচন হবে আমরা আগের প্রস্তুতি নিয়েই অংশ নেব। আর নতুন কোথাও তফসিল হলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত দেবে, যাদের মনোনীত করবে, তারা নির্বাচন করবেন।’

সাংগঠনিক অবস্থা বেহাল হলেও দল ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলে সাধারণ মানুষকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। যে কারণে করোনায় সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দিলেও জনসাধারণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। জনসমর্থন নিয়ে জাতীয় সরকারের মতো স্থানীয় সরকারেও নিরঙ্কুশ জয় পাবে দলটি, এমনটাই ভাবছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
সুত্র : জাগোনিউজ

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!