আজ পবিত্র হজ

বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণে কী বলেছিলেন মুহম্মদ (স.)

ধর্ম ডেস্ক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ। পবিত্র আরাফাত দিবস। এদিন হজযাত্রীদের কণ্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিয়ামাতা, লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাকা।’ অর্থাৎ- হাজির হে আল্লাহ হাজির, আপনার মহান দরবারে হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই।

আজ ফজরের নামাজের পর থেকেই তাঁবুর শহর মিনা থেকে হজযাত্রীরা দু’টুকরো সাদা কাপড়ে আবৃত হয়ে যাত্রা শুরু করেছেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে তালবিয়া ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি।

এর আগে রোববার ফজরের নামাজের পর হজযাত্রীরা ইহরাম বাঁধেন। সে অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতে করতে ইসলামের পবিত্র স্থান মিনার তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান করেন। শনিবার (১৮ জুলাই) সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা ইবাদত বন্দেগিতে সময় পার করেন।

এরপর আজ সোমবার ভোর থেকে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হচ্ছেন। এ দিনটিকে বলা হয় আরাফাত দিবস। মুসলিমরা এদিনকে মূল হজ বলে থাকেন। এই আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন ইসলামের পূর্ণতা।

গত বছরের মতো এবারও সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে হজ। এবার শুধু সৌদি আরবের নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করেন এমন মুসলিমদের হজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাও তাদের সংখ্যা ৬০ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। যেসকল মুসলিম পবিত্র মক্কা নগরীতে পৌঁছার আগে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না অথবা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নিয়েছেন- শুধু তাদেরকেই হজ করতে দেয়া হচ্ছে। ফলে এবারো সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশের হজযাত্রীকে হজ করার অনুমতি দেয়া হয়নি।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে গত বছর যেমন সৌদি আরব হজ পালন করতে সক্ষম হয়েছে, এবারো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছে। এরই মধ্যে হজযাত্রীদের দেয়া হয়েছে স্মার্ট কার্ড। তাদের সেবায় নেয়া হয়েছে সব ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

করোনার এই কঠিন সময়ে হজযাত্রীরা আল্লাহর কাছে সব রকম বিপদ থেকে মুক্তি, মুসলিম জাহানের শান্তির জন্য প্রার্থনা করবেন মহান আল্লাহর দরবারে।

মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দূরত্ব ৭ বা ৮ কিলোমিটার। দিনভর ইবাদতে সময় কাটাবেন সেখানে। জোহর ও আছরের নামাজ একত্রে আদায় করবেন। ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে নামাজের আগে খুৎবা দেবেন গ্রান্ড মুফতি। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে হজযাত্রীরা আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করে কান্নাকাটি করে সময় কাটাবেন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ময়দান ত্যাগ শুরু করবেন।

আরাফাতের ময়দান থেকে ফেরার পথে মুজদালিফায় রাত যাপন করে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ১০ জিলহজ মঙ্গলবার সকালে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরবেন। সেখান থেকে গিয়েই জামারাহ’তে শয়তানের প্রতি প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। পশু কোরবানি করবেন এবং তাওয়াফে জিয়ারাহ, সাফা মারওয়া সাঈ করে আবার মিনার তাঁবুতে ফিরে আসবেন। পরের দুই দিনও একইভাবে মিনার তাঁবু থেকে গিয়ে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবেন। ১২ অথবা ১৩ জিলহজ পাথর নিক্ষেপ শেষ করে হাজিরা মিনার তাঁবু ত্যাগ করে হজের কর্তব্যের সমাপ্তি ঘটাবেন। এরপর মক্কা ত্যাগ করার আগে বিদায়ী তওয়াফ করে যে যার অবস্থানে চলে যাবেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!