অবশেষে অনুমতি পেলো ‘রেড জোন’ কক্সবাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহের

ভোক্তা অধিকারের একটি জিডি, আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে এলপি গ্যাস ব্যবসায়িরা

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক, কক্সবাজার ভিশন ডটকম

গত কয়েকদিন ধরে রেডজোন কক্সবাজার শহরে লকডাউন থাকায় অনেকটা বাসা-বাড়িতে রান্নার প্রয়োজনীয় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ ছিল। এই সময়ে করোনাক্রান্ত রোগীদের জরুরী ভিত্তিতে গরিম পানির দিতেও গ্যাস পায়নি দোকান বন্ধ থাকায়। আবার গ্যাস সিলিন্ডার দিতে গিয়ে শহরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে হয়রানি ও মারধরের শিকারও হয়েছেন দোকান কর্মচারী ও মালিকরা। তবে এই মুহুর্তে ঘরবন্দি মানুষের কথা বিবেচনা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের অনুমতি দিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল্লাহ মারুফ। তিনি নিত্যপ্রয়েঅজনীয় দ্রব্য হিসেবে স্বল্প আকারে দোকান খুলা রাখার বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমে নিশ্চিত করেছেন।
তবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে। দোকান খুললেও কোন প্রকার মানুষ জড়ো হওয়া যাবে না।
এদিকে কক্সবাজার শহরে লকডাউনের এই সময়ে গত ৯ জোন এলপিজি গ্যাস সরবরাহের অনুমতি চেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত একটি আবেদন করে কক্সবাজার জেলা এল.পি.জি ব্যবসায়ী সংগঠন।

সংগঠনটির সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফাইলের স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে জনহগণের বাসা-বাড়িতে জরুরী জ্বালানী এল.পিজি গ্যাস সরবরাহ করে আসছেন। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে করোনা মহামারী প্রার্দুভাবের কারণে সারাদেশে লকডাউন হয়ে যায়। এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও কক্সবাজার জেলা এল.পি.জি ব্যবসায়ীরা জরুরী ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়। যাতে এই সময়ে কক্সবাজারেও কোন ধরণের গ্যাস সিলিন্ডারে সংকট না হয় সেক্ষেত্রে সজাগ ছিল।

কক্সবাজার জেলাভিত্তিক এলপিজি ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবী, বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করতে গিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন বাধার সুম্মুখিন হতে হচ্ছে। অথচ কক্সবাজারে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৫ হাজারের অধিক। জরুরী জ্বালানী তথা এল.পি.জি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে না পারে তাহলে কক্সবাজারের গ্যাসের গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বেন।

এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফাইল ও সহ সভাপতি আলিম উদ্দিন জানিয়েছিলেন, এই লকডাউনের সময়ে মানুষের প্রয়োজনে বাড়িতে গ্যাস দিতে গিয়ে দোকানের মালিক-কর্মচারীরা মারধরের শিকার হয়েছেন। গতকাল বুধবার (১০) জুন ১ নং ওয়ার্ডের সমিতির পাড়াতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বারকে মেরেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর আকতার কামাল। এছাড়াও বাহারছড়াতে গ্যাস দিতে গিয়ে ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকরা কানে ধরে উঠাবসা করিয়েছে দোকান কর্মচারীকে।

এল.পি.জি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরওয়ার কামাল সিকদার বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলার ইউএনও বরাবার একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর ইউএনও মাহমুদুল্লাহ মারুফ আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুমতি দিয়েছেন।’
তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষের বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে।

প্রসঙ্গত: গতকাল বুধবার থেকে রেডজোন কক্সবাজার শহরে লকডাউনের অনুমতি না পাওয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে গ্যাস সরবরাহ। এখন সদর ইউএনও থেকে অনুমিত পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিধি মেনেই স্বাভাবিক রাখছে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!