‘অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে’ ফিরতে আত্মসমর্পণ করছে ৩০ মাদককারবারি, আজ টেকনাফে প্রস্তুত মঞ্চ

‘অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে’ ফিরতে আত্মসমর্পণ করছে ৩০ মাদককারবারি, আজ টেকনাফে প্রস্তুত মঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’, এই শ্লোগানকে বুকে নিয়ে দীর্ঘ দুইবছর ধরে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে মাদক পাচার প্রতিরোধ ও কারবারীদের নির্মুল করার জন্য শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। সেই সুত্র ধরে মাদক পাচারের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে খ্যাত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা টেকনাফেও শুরু হয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর অভিযান।

তথ্য সুত্রে দেখা যায়, টেকনাফে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে গত একবছরে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সাথে ‘গোলাগুলি’তে মারা গেছেন ২০৯ জন মাদক ব্যবসায়ী। উদ্ধার করা হয়ে লাখ লাখ ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র। তবে গত একবছর ধরে টেকনাফ থেকে মাদক পাচার প্রতিরোধ, শীর্ষ মাদক কারবারীদের নির্মুল ও চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সবচেয়ে বেশী কঠোর ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে টেকনাফ মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেশীর ভাগ মাদক কারবারী মারা গেছেন পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’। আবার এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী অন্ধকার জগৎ ছেড়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করেছে ১০২ জন। সেইদিন আত্মসমর্পণ অনুষ্টানে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছিলেন, ‘যারা অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছেন তাদের আমরা আইনী সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য মুক্তি দেয়া হবে। সেই থেকে গত একবছর ধরে তারা কারাগারে রয়েছে। কারাগারে অসুস্থ হয়ে একজন মারাও গেছেন।

এদিকে মাদকবিরোধী চলমান অভিযান থেকে নিজেকে বাঁচাতে ৩ ফেব্রুয়ারী টেকনাফ সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে আবারও আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন মাদক কারবারে জড়িত অন্তত ৩০ জন অপরাধী।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, এই অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কক্সবাজার জেলায় কর্মরত সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় এক বছরের ব্যবধানে আবারও আমরা ‘দ্বিতীয়বারের মতো মাদক কারবারীদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণ অনুষ্টানটি বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্টানে সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকার কারণে স্থানীয়রা মাদক ব্যবসা ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসছেন। তবে বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। পাশাপাশি এই মাদক পাচার অব্যাহত রাখার জন্য তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন পেশায় জড়িত মুখোশধারী মানুষগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফের সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, মাদক কারবারে জড়িত রোহিঙ্গা ও আড়ালে থাকা মুখোশধারী অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে না আসলে ততদিন টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা, আর মাদকের বদনাম মাথায় নিয়ে ধুকে ধুকে মরছে স্থানীয়রা।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!