পলিটেকনিকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাচ্ছে এলাকাবাসি

অধিগ্রহণে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জনপদ ‘মুহুরী পাড়া’!

অধিগ্রহণে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জনপদ ‘মুহুরী পাড়া’!

(স্কেচটিতে হলুদ চিহ্নিত জমি অধিগ্রহণ করতে চায় কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট।)

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহর থেকে খুব কাছের একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ ‘মুহুরীপাড়া’। সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোড এলাকার কাছাকাছি এই জনপদটি একের পর এক সরকারি অধিগ্রহণের শিকার হয়ে ‘নিশ্চিহ্ন’ হতে বসেছে। অধিগ্রহণে শেষ হতে হতে এখন যেটুকু ঠিকে আছে তাও কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট কেড়ে নিতে চায়। এখন প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকা ১৫ হাজার মানুষের এই জনপদটি কী জনবসতি শূণ্য হয়ে যাবে? তাহলে পূর্বপুরুষের ভিটেবাড়ি ছেড়ে এই মানুষগুলো যাবে কোথায়?

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ অধিবাসীদের তথ্য মতে, ‘মুুহুরীপাড়া’ নামের এই জনপদটির ভৌগলিক ব্যাপ্তি ছিল দুই বর্গমাইল। এই জনপদে শুরুতেই ভাগ বসায় কক্সবাজার সরকারি কলেজ ও বিসিক শিল্প নগরী। পাকিস্তানী শাসনামলে এই প্রতিষ্টানের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে ওই জনপদটি প্রথম খন্ডিত করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই জনপদে অধিগ্রহণের নামে ‘ভাগ’ বসায় পশু হাসপাতাল, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বাংলাদেশ বেতার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ও রেল লাইন প্রকল্প।

সূত্রগুলো মতে, বিশাল এই জনপদটি একে একে অধিগ্রহণের শিকার হয়ে অধিকাংশ জমি হারায়। অধিকাংশ মানুষই পূর্বপুরুষের ভিটেবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

এলাকাবাসির অভিযোগ, একের পর এক অধিগ্রহণের শিকার হওয়ার পর যেটুকু জনপদ ঠিকে আছে তার উপর নতুন করে নজর পড়েছে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের। এই শিক্ষা প্রতিষ্টানটি বর্তমান জমির বাইরে আরও ৭ একর জমি অধিগ্রহণ করতে চায়। এ নিয়ে তারা ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবণাও পাঠিয়েছে।

সূত্র মতে, বর্তমানে যেখানে পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটটি রয়েছে তার চারপাশে রয়েছে দীর্ঘদিনের জনবসতি। এই জনবসতিতে এখন ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন। অথচ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় কোন জনবসতি নেই- এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে নতুন করে ৭ একর জমির জন্য প্রস্তাবণা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

এলাকাবাসির দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোন জনবসতি এলাকা অধিগ্রহণ করা যাবে না। অথচ কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট কর্তৃপক্ষ ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে পুরণো একটি জনপদ উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা করছে।

মুহুরী পাড়া ঘুরে এসে জানা যায়, বর্তমান পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে প্রচুর পরিমাণে খাস ও নাল জমি রয়েছে। পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট চাইলে ওখানে অধিগ্রহণের প্রস্তাবণা দিতে পারে। তা না করে একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা উচ্ছেদের অপচেষ্টা করছে।

এলাকাবাসির অভিযোগ, কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ইনষ্ট্রাক্টর একটি গ্রুপের সাথে সিন্ডিকেট করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০টি পরিবারকে রেখে অবশিষ্ট সকল অধিবাসীদের বসতভিটাকে অধিগ্রহণের আওতায় ফেলে প্রস্তাবণা তৈরি করেছেন। যা ‘জনবসতি নেই’ বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেই প্রস্তাবণা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে এলাকাবাসি জানতে পেরেছেন।

নাম প্রকাশ না করে একাধিক অধিবাসী জানান, কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট কর্তৃপক্ষ যদি তাদের প্রস্তাবণা পরিবর্তন না করে তাহলে এলাকার অধিবাসীদের আন্দোলনমুখী হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকবে না।

তাদের মতে, খুব শীঘ্রই কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ও অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করবেন।

তবে এ ব্যাপারে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!