সৈকতে ভেসে আসা লাশের সংখ্যা বেড়ে ৮, দুইজন জীবিত উদ্ধার

কক্সবাজার সৈকতে চট্টগ্রামের যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সী-গাল পয়েন্ট থেকে ছয় ব্যক্তির মৃতদেহ, লাবনী পয়েন্ট ও মহেশখালীর ঘোরকঘাটা থেকে পৃথক দুটিসহ ৮টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে এসব লাশ জোয়ারে ভেসে সৈকতের উপকূলে উঠে আসে। পরে সকাল সাতটার দিকে ভাসমান একটি ট্রলারের পাশ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। এখনো অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার করা ব্যক্তিরা হলেন ভোলার চরফ্যাশনের মো. জুয়েল (২২) ও মনির আহমদ (৫০)। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিরা সবাই জেলে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ভোরে সৈকতে লাশ ভেসে আসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ সৈকতের সী-গাল পয়েন্ট থেকে প্রথমে চার ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে। সকাল সাতটার দিকে সৈকতের কাছে আটকেপড়া একটি মাছধরার ট্রলারের পাশ থেকে আরও দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রলারের আশপাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় লাবনী পয়েন্ট থেকে আরও একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে মহেশখালী থেকে এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, এসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আহত দুই জেলেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ পরিদর্শক মো. খায়রুজ্জামান বলেন, পাঁচদিন আগে ভোলার চরফ্যাশন থেকে একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে নামেন স্থানীয় ১৫ জন জেলে। ট্রলারটি কক্সবাজার উপকূলে মাছ ধরতে এসে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে। একসময় ট্রলারটির ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়। প্রাণ রক্ষার্থে জেলেরা সাগরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলে আসতে পারেননি তাঁরা। আজ ভোরে ট্রলারটি জোয়ারের ধাক্কায় ভেসে কক্সবাজার সৈকতের কাছে চলে আসে।

চারদিন ধরেই উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূল। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে চার ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলে আঘাত হানছে। কক্সবাজার উপকূলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ আছে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেন, গত ২০ মে থেকে টানা ৬৫ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে সরকারের ‘মাছ ধরা বন্ধ’ কর্মসূচি চলছে। এ কারণে জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া উপজেলার প্রায় ছয় হাজার ট্রলার বঙ্গোপসাগরে নেই। ট্রলারগুলো স্থানীয় বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করা আছে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে উত্তাল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে ভোলার এই ট্রলার দুর্ঘটনায় পড়ে এবং হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অনুসন্ধান চলছে। মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তিরা সবাই চরফ্যাশনের বাসিন্দা।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!