বুদ্ধপূর্ণিমা

কক্সবাজারের ১৪৭ বৌদ্ধ মন্দিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমাকে ঘিরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মতো কক্সবাজারের ১৪৭টি বৌদ্ধমন্দিরেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার থেকে জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের লোকজনের সমন্বয়ে প্রতিটি মন্দিরভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুদ্ধপূর্ণিমা ঘিরে সম্প্রতি ইসলামিক স্টেট (আইএস) কিংবা জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বৌদ্ধ মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে আত্মঘাতী হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে- এমন তথ্য জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক বার্তা জানানোর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তামূলক এ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এ কমিটির অনুকূলে রাখাইন ও চাকমাসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ১৪৭টি মন্দিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে এ ধর্মীয় উৎসব পালন করা হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কার তথ্য জানিয়ে পুলিশের সদর দফতর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে তৎপরতা শুরু করেছি আমরা।’

পুলিশ সুপার জানান,  এ নিয়ে গত মঙ্গলবার জেলার বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিনিধি ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এতে বৌদ্ধ মন্দির ও অনুষ্ঠানস্থলকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ, আনসার, কমিউনিটি পুলিশ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুদ্ধপূর্ণিমার দিনে প্রতিটি মন্দির ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হবে। র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বাড়তি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

জেলা পুলিশের একটি মনিটরিং সেলও নিরাপত্তার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখবে জানিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে কক্সবাজার এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিত। তাই বুদ্ধপূর্ণিমার দিন যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি না হয়, জেলা পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যাপক নজরদারি করবে।

শুধু নিরাপত্তাকর্মীরা নয়, বুদ্ধপূর্ণিমায় মন্দিরগামী পূজারীদেরও ব্যক্তিগতভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বলে উল্লেখ করে এ বৌদ্ধ নেতা বলেন, বুদ্ধপূর্ণিমার দিন ছাড়াও জেলার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদারে ৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপের পর স্ব স্ব মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে তা হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি রবীন্দ্র বড়ুয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলায় বড়ুয়া, রাখাইন ও চাকমাসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মোট ১৪৭টি মন্দির রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দির কেন্দ্রিক গঠিত নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের নিয়ে আলাদা সভা করা হয়েছে। এতে বুদ্ধপূর্ণিমার দিন কীভাবে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, তার ছক কষা হয়েছে।

এদিকে বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ত্রি-স্মৃতি (বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ) বিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমাকে ঘিরে কক্সবাজারে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। দিবসটি পালনে কক্সবাজারের রামুতে সম্রাট অশোকের স্মৃতি বিজড়িত রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারে শুক্রবার বিকেলে গণপ্রবাজ্জ্যা অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ১০১ জন বৌদ্ধ কূলপুত্রকে শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষাদান করা হবে। রাতে হবে বৌদ্ধ সংকীর্তন। শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে ৮৪ হাজার বুদ্ধ ধর্মস্কন্ধ পূজা। প্রতি বছর এতে সমাগম ঘটে হাজারো পূজারী বৌদ্ধ নর-নারীর।

এছাড়া বুদ্ধপূর্ণিমার দিন সকালে উখিয়ায় সার্বজনীন বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে পালিত হবে পদব্রজে বর্ণাঢ্য শান্তি শোভাযাত্রা। এ বছর পশ্চিমরত্না শাসনতীর্থ বৌদ্ধ বিহার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে পাইন্যাশিয়া ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে শেষ হবে। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা।

এসব কর্মসূচি ছাড়াও জেলার প্রতিটি বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধপূর্ণিমা পালনে স্ব স্ব কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে বৌদ্ধ নেতারা জানিয়েছেন।-জাগো নিউজ।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ