কক্সবাজারে ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ২৫ হাজার টাকার শাড়ি বিক্রি করলো ৫ হাজার টাকায়

প্রতিবছর রোজা আসলে বেড়ে যায় অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। এসব ব্যবসায়ী দোকানের চাকচিক্যতার আড়ালে প্রতিনিয়ত ঠকাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কক্সবাজার শহরের বড় বাজারে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে কিছু বিপনী বিতানে নিজেদের ইচ্ছেমতো নিচ্ছে পোশাকের দাম। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দোকানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাত শহীদ পিংকির নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কাপড়ের দোকান মেগামার্টে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা ঠকানোর এলাহী কারবার। একটি ৫ হাজার টাকার কাতান শাড়ির দাম হাকানো হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ভ্রাম্যমান আদালত গেলে সেই পোশাক ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানানো হয়। এছাড়া আড়ংয়ের একটি পাঞ্জাবী বিক্রির দর ধরা হয় ১৮৭০ টাকা। অথচ এটির পাইকারী ক্রয়মূল্য ১২৫০ টাকা। একইভাবে একটি ফ্রকের মূল্য পৃ
ট্যাগ লাগানো হয় ৬৯৫০ টাকা। পণ্যগুলোর পাইকারী ক্রয় মূল্যের ভাউচার চাওয়া হলে দোকান কর্তৃপক্ষ দিতে গড়িমসি করে। এক পোশাকের জায়গায় অন্য পোশাকের পাইকারী ক্রয়মূল্য দেখিয়ে মোবাইল কোর্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তাই পোশাকের ক্রয়-বিক্রয় মূল্যের সামঞ্জস্যতা না থাকা, অতিরিক্ত মুনাফা নেয়ার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪০ ও ৫৩ ধারামতে মামলা নম্বর-৩৩/২০১৯ মূলে মেগামার্টের মালিক জহিরুল ইসলামকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই ভাবে সানা ক্লথ ষ্টোরে গিয়েও দেখা যায় ক্রেতা ঠকানোর বাহারি আয়োজন। ওখানে অধিকাংশ পোশাকের ক্রয় ভাউচার নেই। যাতে ইচ্ছেমতো মুনাফা লুফে নেয়া যায়। এই অবস্থায় মোবাইল কোর্ট সানার সত্বাধিকারি মোক্তার আহমদকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে এ,ছালাম শফিং কমপ্লেক্সের সাকিব বস্ত্র বিতানের কর্ণধার মো. সেলিমকে ক্রয় মূল্য ভাউচার না থাকা, অধিক মুনাফা লাভের অভিযোগে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ব্যবসায়ীসহ পরিধান বস্ত্র বিতান, সীমা ফ্যাশনসহ কয়েকটি দোকানকে প্রতিটি পোশাকে মূল্য ট্যাগ লাগানোর আর্দেশ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, কাপড়ের দোকানগুলোকে প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ জন্য সময়সীমাও বেধে দেয়া হয়। পুরো রমজান মাসে জুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে জেলা মার্কেটিং অফিসার শাহজাহান আলী, জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর তরুণ বড়–য়াসহ আর্মড ব্যাটালিয়ান ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ