ঈদের আগেই বিদেশ যাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

ঈদের আগেই বিদেশ যাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

>> সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে
>> যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সহায়তা কামনা
>> সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিএসএমএমইউতে খালেদা
>> স্বাস্থ্য পরীক্ষায় খালেদা জিয়ার জটিল কিছু ধরা পড়েনি

উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ঈদের আগেই কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন- দলটির অন্দরমহলে এমনই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে দায়িত্বশীল নেতাদের দাবি, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

দলীয় সূত্র জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ঈদের আগেই সৌদি আরব অথবা যুক্তরাজ্য যাবেন খালেদা জিয়া। সরকারের সঙ্গে বিএনপির এ নিয়ে একটা সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে। খবর জাগোনিউজের।

গত ১৫ মার্চ বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে এ প্রস্তাব দেন। তাদের একজন দলের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়, অন্যজন সিনিয়র নেতাদের খসড়া লেখক হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে গত ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। ওই বৈঠকে দলীয় নেতারা চেয়ারপারসনের প্যারোল নিশ্চিত করতে কূটনীতিকদের সহায়তা চান।

সূত্র বলছে, সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তথা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডা. মামুনকেও রাখা হয়েছে। এখান থেকেই তাকে বিদেশে পাঠানো হবে।

অপর একটি সূত্রের খবর, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে যারা অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তারা এক পরিচ্ছন্ন নেতাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে সমঝোতার মাধ্যমে প্যারোল প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাইছেন। সংগঠন শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় যেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় সেখানে তারা আপস করে খালেদা জিয়ার আপসহীন উপাধিকে ম্লান করতে চাইছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের কাছ থেকে মর্যাদাবঞ্চিত সিনিয়র নেতারা এ প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়া বাইরে না থাকলে শেষ বয়সে রাজনীতিতে তাদের করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিএনপি চেয়ারপার্সনকে সামনে রেখে বাকি জীবন তারা রাজনীতিতে টিকে থাকতে চান। এজন্য প্যারোলের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেখানে যে প্রতিবেদন পাওয়া যায় তা ছিল স্বাভাবিক। পুরনো অসুস্থতাজনিত ছাড়া খালেদার অন্য কোনো সমস্যা উল্লেখ করার মতো ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। খালেদা জিয়াকে হাসপতালে আনা সম্পূর্ণ লোক দেখানো। খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে মেডিকেল বোর্ডের সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে চাপা আলোচনা চলছে। দলের মধ্যম সারির একটি সূত্র বলছে, দলে গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা আছেন যিনি প্রায়ই ম্যাডামের (খালেদার) মুক্তির দাবিতে গর্জন তোলেন। সেই নেতা ইদানিং নতুন পোশাকে, শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে চড়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে যান। তার মুখে এক, অন্তরে আরেক বুলি রয়েছে কিনা- সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ে।

এছাড়া চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার জন্য যেখানে বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি করা হচ্ছে, সেখানে হঠাৎ করে কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হলো- বিষয়টি অনেককে ভাবাচ্ছে।

খালেদা জিয়া প্যারোল নিয়ে বাইরে গেলে তখন দলের জন্য কী কী ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে। তবে সবার ওপরে চেয়াপার্সনের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া যেটা চাইবেন, সেটা হলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি হবে। তবে কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কেউ সংশ্লিষ্ট থাকলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। এটা আমি কোনো দিন শুনিনি।’

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমরা জানি না। দল থেকে আমরা এটা কখনও বলিনি। আমাদের দাবি, প্রাইভেট বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন ম্যাডামের চিকিৎসা হয় এবং সর্বোত্তম চিকিৎসা হয়। এটা কীভাবে হবে, কীভাবে করবে- তা একান্তই সরকারের। কারণ তিনি (খালেদা জিয়া) সরকারের কাস্টডিতে আছেন, তাই দায়িত্বটাও সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্টি থেকে সরকারের কাছে কখনও প্যারোলে মুক্তির জন্য দাবি বা অনুরোধ করা হয়নি। এটা কোথা থেকে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে আমরা জানি না!’

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘প্যারোলের বিষয়ে আমরা অবগত নই। প্যারোল তো ম্যাডাম চাননি। সরকার প্যারোল দেবে- এমন কোনো প্রস্তাবও আমরা পাইনি।’

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমিও জানি না।’

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ