বিএনপি অফিসেই ৩০ দিন থাকা-খাওয়া-ঘুম

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা ৩০ দিন ধরে অবস্থান করছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গ্রেফতার এড়াতে এই নেতা এমন করছেন বলে জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। রিজভীর তার কিছু অনুসারীরাও দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।
গত ২৮ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে ফেরার পথে গ্রেফতার হন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ওই বৈঠকে রিজভীও ছিলেন। গয়েশ্বরের গ্রেফতারের খবর শুনে নয়াপল্টন কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন রিজভী। এরপর কার্যালয় থেকে আর বের হননি তিনি।
তবে ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভায় অংশ নিতে কার্যালয় থেকে বের হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, নয়াপল্টনে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিতে পদ প্রত্যাশী কিছু নেতাও রিজভীর সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।
আমিনুল ইসলাম ‌প্রিয়.কম‌কে ব‌লেন, অন্যরা ভাগ করে তথা একেক রাতে একেক নেতা রিজভীকে সঙ্গ দিলেও তিনি গত ২৮ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত রিজভীর সঙ্গেই থাকছেন।
কার্যালয়ে অবস্থাররতরা ফ্লোরে ঘুমান বলেও জানান আমিনুল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিজভীর স্ত্রী বেশির ভাগ সময় তার স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে আসেন। এছাড়া দলটির সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও শিল্পী বেবী নাজনীনও রিজভীর জন্য মাঝে মাঝে খাবার নিয়ে আসেন। আর অন্যদের খাবার কার্যালয়ের ভেতরেই রান্না হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত দুটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন রিজভী। এছাড়া নানা ইস্যুতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করছেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সময় কিভাবে কাটে জানতে চাইলে কার্যালয়ে অবস্থানরত এক কর্মচারী জানান, সকাল ১০ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কার্যালয়ে আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান। তবে বেশিরভাগ সময় পছন্দের বই পড়ে সময় কাটে রিজভীর। রাতে খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে ভোররাত পর্যন্ত বই পড়া নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন বলেও জানান কার্যালয়ের এই কর্মচারী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাস্যোজ্জল ভঙ্গিতে রুহুল কবির রিজভী ব‌লেন, ‘এই আ‌ছি মোটা‌মুটি। ভা‌লো থাক‌বো কী ক‌রে এই বদ্ধ অবস্থায়। যেখা‌নে খা‌লেদা জিয়ার কোন ফয়সালা হ‌লো না, কার্যালয় থে‌কে নি‌চে নাম‌লেই গ্রেফতার করা হ‌চ্ছে। সেখা‌নে আর নি‌চে নাম‌ছি না। গ্রেফতার হ‌লে অফিস থে‌কে হ‌বে। তত‌দিন কথা ব‌লে যা‌বো।’
‌গ্রেফতার আশঙ্কা কেন -এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কু‌মিল্লায় বেগম খা‌লেদা জিয়ার না‌মে যে মামলা সেটার একজন আসামী আ‌মি। তারপরও কর্মসূ‌চি‌তে অংশ নি‌চ্ছি। সম্প্র‌তি পু‌লিশ মারার মামলায় আমা‌কে প্রধান ১ নম্বর আসামী করা হ‌য়ে‌ছে তাই গ্রেফতারের আশঙ্কা করছি।’

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!