কলাম

সৈকতে আমি, আমার সাংবাদিকতা

আনছার হোসেন

আনছার হোসেন

১৯৯২ সালের কথা। আমি তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র। প্রধান সড়ক হয়ে সাইকেল চালিয়ে সিরাজ স্যারের (এসএম সিরাজুল ইসলাম) কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতাম। ওই সময়েই প্রথম নজরে আসে বাজারঘাটায় দৈনিক সৈকতের সাইনবোর্ড। একদিন জড়োসড়ো মুখে ওই অফিসে ঢুকে পড়লাম। অন্য অনেকের সাথে দরজার ঠিক ওপাশে দাঁড়িওয়ালা এক ভদ্রলোক বসে আছেন। পরে জানলাম তিনি ইসলাম ভাই (মুহম্মদ নূরুল ইসলাম), এই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। ওনার কাছে গিয়েই বললাম, ‘আমি পত্রিকায় কাজ করতে চাই। তবে বাইরে যেতে পারবো না। অফিসেই কাজ করবো (তখন স্টাফ রিপোর্টার কী জিনিস জানিই না)।’

তিনি আমার কাছে উল্টো জানতে চাইলেন আমি ‘NEWS’র মানে বুঝি কিনা! আমি তো কিছুই জানি না। শুধুি বুঝি ঘটনা মানেই নিউজ। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। আবার তিনিই আমাকে জানালেন, ‘NEWS’ মানে হলো North (উত্তর), East (পূর্ব), West (পশ্চিম) ও South (দক্ষিণ)। যার অর্থ দাঁড়ায়, চারদিকের যা কিছু ঘটনা তা-ই হলো ‘NEWS’। সেদিনই ঢুকে পড়লাম দৈনিক সৈকতে। ইসলাম ভাই বললেন, ‘কাজ শেখো।’

পরদিন থেকে সিরাজ স্যারের প্রাইভেটের ফাঁকে রাতের বেলা ঘন্টাদুয়েক করে কাজ করতে শুরু করলাম। সেই থেকে শুরু। আর এই পত্রিকা অফিসে বসেই আমার নিউজ শেখা, কক্সবাজার জেলার প্রথম ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে হাতেখড়ি।

এভাবে একমাস সময় গড়ানোর পর মজুরির (বেতন) কথা তুললাম। আমি তখনও শিখছি। তাই আমার জন্য বরাদ্দ হলো মাসিক ৩০০ টাকা। আমার জীবনের প্রথম উপার্জন। এভাবে ৩০০ টাকা বেতনে অনেকদিন কেটেছে।

স্মৃতি মানুষের সাথে প্রতারণা করে। আমার সাথেও করছে। আমি এখন ঠিক মনে করতে পারছি না, ওই ৩০০ টাকার বেতন কতদিন পর বাড়ানো হয়েছিল। তারপর কতদিনই বা এই পত্রিকায় একটানা কাজ করেছিলাম। যতদূর মনে পড়ছে, স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে এই দৈনিক সৈকত থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেছিলাম, আর এই পত্রিকাতেই ক্রীড়া প্রতিবেদক, ক্রীড়া সম্পাদক, শিফট ইনচার্জ ও বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি। তারপর বিভিন্ন কারণে, সেই কারণগুলো না-ইবা বললাম, এই পত্রিকা থেকে বেরিয়ে গেছি। তারপর দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ, দৈনিক বাঁকখালী ঘুরে অনেকদিন পর আবারও ফিরে এসেছি প্রিয় দৈনিক সৈকতে। মাঝখানে আরও একবার দৈনিক সৈকতে এসেছিলাম, তখন অবশ্য বেশিদিন ঠিকে থাকার সৌভাগ্য হয়নি। ক্ষুদ্র মনোমালিন্য নিয়ে ফিরে গেছি অন্যত্র।

এখন প্রায় তিনবছর ধরে দৈনিক সৈকতের নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তবে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, যে আশা নিয়ে, যা কিছু করার প্রত্যাশা নিয়ে আবার এই পত্রিকায় জয়েন্ট করেছিলাম তার কিছুই আমি করতে পারিনি। এটি আমার অযোগ্যতা নাকি ম্যানেজমেন্টের দূর্বলতা এখনও নিজেই বুঝতে পারছি না। যারা আমাকে চেনেন তারা নিশ্চয় বুঝতে পারবেন, আসলে দূর্বলতাটা কোথায়!

আনছার হোসেন

আমি কেন সৈকতে
আমি যখন দৈনিক সৈকতে কাজ করতে শুরু করেছিলাম তখন কক্সবাজারে দৈনিক পত্রিকা ছিল মাত্রই দুইটি। অন্য পত্রিকাটির সাথে আমার কোন পরিচয় ছিল না। তখন অবশ্য আমার বয়সও কম। মাত্রই স্কুল পার হবো হবো করছি। পত্রিকা জগত আমার চেনার কথা নয়। তখন জাতীয় পত্রিকা বলতে চিনতাম দৈনিক ইত্তেফাক। সেই ইত্তেফাকের বিজ্ঞাপনে ‘কলমবন্ধু’ সম্পর্কে সবে জানতে শুরু করেছি। বেশ কয়েকটি ‘কলমবন্ধু’র বইও আনিয়ে নিয়েছি। নতুন নতুন বন্ধুদের খুঁজতে শুরু করেছি। ঠিক ওই সময়েই মাথা ঢুকেছে সমাজের জন্য, কাছের মানুষদের জন্য কিছু করতে হলো পত্রিকায় কাজ করতে হবে। সেই মতো ঢাকার এক অখ্যাত পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে কাজ করার অভিপ্রায় করে ফেলেছি। কিন্তু তখনও জানতাম না, ওই পত্রিকাটি যে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’! ঢাকার দক্ষিণ গোড়ানের ওই পত্রিকাটির কাজই হলো সাংবাদিকতার নামে টাকা দিয়ে কার্ড বিক্রি করা! আমি শুরুতেই তাদের পাল্লায় পড়ে গিয়েছিলাম। যদিও আমি অল্পতেই বুঝে ফেলেছিলাম ওই পথ আমার নয়। আমি চাই সৎ ভাবে বাঁচতে, সততায় সাংবাদিকতা করতে।

‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পত্রিকা জগতে নতুন কোন শব্দ নয়। প্রায় বহুল প্রচলিত শব্দ। পত্রিকা জগতে ভালো পত্রিকার চেয়ে ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’র সংখ্যাই বেশি। যারা পত্রিকা জগতের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ শব্দটি সম্পর্কে পরিচিত নন তাদের বলতে চাই, কিছু অসাধু মানুষ আছে যারা পত্রিকার ডিক্লারেশন নিয়ে অল্পসংখ্যক পত্রিকার কপি বের করেন, যার কপি সাধারণত মানুষের কাছে পৌছায় না। তাদের কাজই হলো পত্রিকার সার্কুলেশন না বাড়িয়ে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা, সরকারের কাগজের কোটা সুবিধা নেয়া আর সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগের নামে কার্ড বিক্রি করা!

কক্সবাজারেও এখন ওই ধরণের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পত্রিকার সংখ্যা বাড়ছে। যাদের কাজ হলো পত্রিকার নাম দিয়ে মানুষকে হুমকি ধমকি দেয়া আর কার্ড বিক্রি করা। এমনও শুনেছি, এসব পত্রিকা ইউনিয়ন নয়, ওয়ার্ড পর্যায়েও কার্ড বিক্রি করে!

আমার প্রথম জীবনে এরকম ‘আন্ডারগ্রাউন্ডে’র পাল্লায় পড়ে গিয়েছিলাম। তবে টাকা দিয়ে কার্ড কিনেছিলাম কিনা এখন কোন ভাবেই মনে করতে পারছি না। স্মৃতিগুলো বড়ই প্রতারক!

যাক, আবার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। দৈনিক সৈকত সেই তুলনায় কক্সবাজারে তখন ব্যাপক জনপ্রিয়। তখন তো আর প্রথম আলো কিংবা বাংলাদেশ প্রতিদিন ছিল না। ছিল দৈনিক ইত্তেফাক। এই পত্রিকাটি তখন বোদ্ধা মহলে দারুণ জনপ্রিয়। একসময় শুধু বিজ্ঞাপনের কারণে এই পত্রিকার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। চমৎকার ডিজাইনের বিজ্ঞাপনের বাহার ছিল এই পত্রিকায়। ছোট বয়সে সিনেমার রঙ্গিন বিজ্ঞাপন আমার কঁচি মনের নজর কেড়েছিল।

দৈনিক সৈকত ছিল সেই সময়ে কক্সবাজার জেলার ইত্তেফাক। এই পত্রিকার মাষ্টার হেডের ডিজাইনও ছিল ইত্তেফাকের মতো। এখনও তাই রয়েছে। আর কক্সবাজারের স্বনামধন্য সাংবাদিকরা এই পত্রিকাতেই বসতেন। সেই সময়ের তুখোড় ও জনপ্রিয় সাংবাদিকদের মধ্যে মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, প্রিয়তোষ পাল পিন্টু, মমতাজ উদ্দিন বাহারী, নজরুল ইসলাম বকসী, নুরুল ইসলাম হেলালী, কামাল হোসেন আজাদকে এই পত্রিকায় কাজ করতে দেখেছি। আমি যখন পত্রিকা জগতে আসছি, এরা তখন পূর্ণমাত্রায় সাংবাদিকতায় ব্যস্ত, যাদের সান্ধ্যকালিন কর্মস্থল ছিল দৈনিক সৈকত।

তাই তো দৈনিক সৈকতে আমিও এসে পড়েছিলাম। এসে এই সকল সিনিয়র সাংবাদিকদের সাহচর্য্য পেয়েছিলাম। শুধু সাহচর্য্য নয়, সাংবাদিকতাটাও শিখেছিলাম এই সৈকতে বসেই।

শুধু আমি নই, কক্সবাজার জেলা শহরের এই সময়ের অনেক সিনিয়র ও তরুণ সাংবাদিকই এই সৈকত থেকেই সাংবাদিকতার হাতেখড়ি করেছেন। এদের হয়তো কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, কেউ হয়তো নিজের অতীত ভুলে গেছেন রাজনৈতিক পরিচয়ে।

কক্সবাজার শহর থেকে এখন ২১টির মতো দৈনিক পত্রিকা বাজারজাত হয়। এই পত্রিকার মধ্যে অনেকগুলোর জন্মই দৈনিক সৈকত সম্পাদকের সুপারিশে, নয়তো সৈকত সম্পাদক মাহবুবর রহমানের হাত ধরে তাদের জন্মক্ষণ পার করেছে।

দৈনিক সৈকত ও এখনকার সাংবাদিকতা
আমি এই জগতে সাহস করে সত্য কথা বলতে ভালোবাসি। তাই হয়তো অনেকেই আমাকে অপছন্দ করতে পারেন। তবে তাও কিন্তু সামনাসামনি নয়, অন্তরে অন্তরে। সাংবাদিক হিসেবে আমার কাজ সম্পর্কে যারা জানেন, তারা আমার শক্রু হতে পারেন বলে আমি বিশ্বাস করি না। হয়তো তাদের কেউ কেউ হিংসা করতে পারেন। হিংসা করাটা আমার জন্য আশির্বাদের মতো।

তবে যা বলতে চেয়েছিলাম, আমি যখন সাংবাদিকতা শুরু করি তখন যেমন ‘হলুদ’ সাংবাদিক ছিল তেমনি এখনও ‘হলুদ-নীল-লাল’ সাংবাদিক আছেন! হলুদ ছাড়াও কেন নীল-লাল বললাম, এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। বললাম এই কারণে যে, সাংবাদিকতার হলুদ রঙ পেরিয়ে এখন আরও অনেকদূর পেরিয়ে গেছে।

আমি যখন সাংবাদিকতায় আসছিলাম তখন ধারণা ছিল, ভালো ও সৎ মানুষরাই এই জগতে কাজ করেন। কিন্তু এসে দেখলাম এই জগতে খারাপ মানুষরাই ‘লিড’ করছেন। যারা যতবেশি খারাপ তারা ততো বেশি ‘ভালো’ সাংবাদিক! ‘খারাপে’র আবার রকমফের আছে। এখানকার খারাপ মানে হলো যার নিজের কোন সততা নেই তিনিই কিনা আরেকজনের অসততার প্রশ্ন তুলছেন (প্রতিবেদন তৈরি)! আর এখন সেই তথাকথিত ‘ভালো’ সাংবাদিকদের সংখ্যা এতো বেড়ে গেছে যে, ‘হলুদ’ সাংবাদিকতার রূপ-রঙ নিচে নামতে নামতে ‘নীল’, ‘লাল’ রঙে নেমে এসেছে!

কক্সবাজারে এখন সাংবাদিকতার স্বরূপটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সমাজের খারাপ মানুষগুলোই যেন এই পেশায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। তবে ভালো মানুষ যে নেই তা বলছি না। যারা সৎ ভাবে ভালো সাংবাদিকতা করছেন তারা যেন আমার এই মন্তব্যে কষ্ট না পান।

কক্সবাজারে এমন সাংবাদিকও আছেন যাদের দিনের প্রথম কাজটা হচ্ছে কিভাবে আরেকজন মানুষকে বেকায়দায় ফেলে দিনের আহার যোগাড় করা যায়! আর এটা করতে গিয়ে হুমকি ধমকি কিংবা আরও নিচুজাতের কিছু করতেও তাদের গায়ে লাগে না। অথচ এই ‘সাংবাদিক’রাই দুই কলম সুন্দর করে নিউজ লিখতে কলম ভেঙ্গে ফেলেন। অথচ তাদের টাট-বাট এমন ওদের চেয়ে ‘বড় সাংবাদিক’ আর কেউ নেই!

এদের পরিচয় তুলে ধরতে গেলে নতুন আরেকটি নিবন্ধ লিখতে হবে। তবে দৈনিক সৈকত ও দৈনিক সৈকতের সম্পাদকীয় কিংবা মালিকপক্ষের কেউ এই দোষে দোষী নন বলে আমার বিশ্বাস। কোন এক সময় ‘হলুদ-নীল-লাল’ সাংবাদিকদের একটি বহর এই পত্রিকাতেও ঢুকে পড়েছিল। এখন তারা পালিয়ে গেছেন।

দৈনিক সৈকতে এখন যারা কাজ করছেন তারা ওই নিচু পর্যায়ের কেউ নন। তারা কিছু সুবিধার জন্য দপ্তরে দপ্তরে গিয়ে ধরণা দেন না। দৈনিক সৈকতের সম্পাদক কিংবা মালিকপক্ষ টাকার বিনিময়ে কার্ড বিক্রি করেন না। ভালো কিছু করতে না পারলেও মন্দ থেকে এই পত্রিকা দূরে থাকার চেষ্টা করে চলেছে ২৫ বছর ধরে।

আমি কেন এই সৈকতে
সাংবাদিকতায় এসে নষ্টামি করলে এখন অনেক টাকার মালিক হতে পারতাম আমি। কিন্তু কখনও সেই চেষ্টা ছিল না। পেট চালানোর জন্য সাংবাদিকতার পাশাপাশি ব্যবসা করি। আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতায় লোকাল পত্রিকা গুলোতে কাজ করলে প্রতিদিন পেটে ভাত দেয়া সম্ভব নয়। এতো অল্প বেতনে সংসার তো দূরের কথা, নিজের পেট চালানোও কঠিন।

সেই কঠিন সময়ে আমি দৈনিক সৈকতে কাজ করছি। এই সৈকত নিয়ে আমার বেশ কিছু স্বপ্নও ছিল। আমি যেখানে থাকি সেখানে যেন ‘অপ’রা কাজ করতে না পারেন। আমি এবার যোগদানের পর সেই স্বপ্নটা এমনিতেই পূরণ হয়ে গেছে। কিভাবে পূরণ হয়েছে তা যারা মানে মানে কেটে পড়েছেন তারা ভালো করেই জানেন!

দ্বিতীয়ত এই পত্রিকাটির যে সুনাম রয়েছে সেই সুনামের যোগ্য পত্রিকা যেন মানুষের হাতে তুলে দিতে পারি। আফসোস, এই স্বপ্নটি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

আমি চেয়েছিলাম, নিউজ, সার্কুলেশন আর বিজ্ঞাপন এই তিনটি বিভাগকে সমান তালে চালিয়ে এই পত্রিকাটিকে জেলার চুড়ান্ত পর্যায়ে তুলে আনবো। কিন্তু স্বপ্ন আছে, সাধ্যে কোলাচ্ছে না!

সেই স্বপ্ন নিয়ে এখনও সামনে তাকিয়ে আছি। কেউ কী আছেন আমার এই স্বপ্নের সারথী হবেন?
পহেলা মে, ২০১৭।

লেখকঃ আনছার হোসেন,
নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান, দৈনিক সৈকত, সম্পাদক ও প্রকাশক, কক্সবাজার ভিশন ডটকম এবং সভাপতি, অনলাইন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (ওআরএসি)।

(লেখাটি দৈনিক সৈকতের ২৫ বছর পূর্তিতে ০৩ মে ২০১৭ বুধবারের বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত।)

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।