খালেদার ভাগ্য নির্ধারণ হবে সৌদিতে

খালেদাকে আদালতে হাজির করতে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’

সৌদি আরবে নির্ধারিত হবে বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্য। ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীন থেকে ক্ষীণতর হয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে বিএনপি এবং বেগম জিয়ার পরিবারের যে সমঝোতার প্রচষ্টা। সেই সমঝোতার প্রচষ্টা খুব একটা এগোয়নি। এখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। অন্য একটি সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা থমকে গেছে তৃতীয়পক্ষ হস্তক্ষেপের কারণে। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন পরবর্তী অবস্থা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হঠাৎ করেই সৌদি দূতাবাসের আগ্রহ তৈরী হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রদূত কিছুদিন আগেই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩১মে সৌদি আরবে যাচ্ছেন এবং সেখানে ওমরাহ পালন এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে একাধিক বৈঠক ছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সৌদি আরব বরাবরই সহানুভূতিশীল।

একটি সূত্র বলছে, সৌদি আরবে বেগম খালেদা জিয়ার বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদ রয়েছে। কিছুদিন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের অবৈধ সম্পদ সম্পর্কে সৌদি আরবের পত্র পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে যে, সৌদি আরবে বিনিয়োগকৃত অর্থের একটা বড় অংশ খরচ করেই সৌদি সরকারের একটি মহলকে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য তৎপর করা হয়েছে। তারাই সরকারকে বেগম জিয়ার জামিন এবং সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য প্রেরণের ব্যাপারে দেনদরবার করছে। তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম জিয়ার জামিনের ব্যাপারে সৌদি আরব যে তৎপরতা চালাচ্ছে তাতে বেগম জিয়ার রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া বা রাজনৈতিক অবসর নেওয়া এবং সৌদি আরবে চিকিৎসাকালীন সময়ে কোনোরকম রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়া, এই তিনটি মৌলিক বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। এই তিনটি বিষয়ে বেসম খালেদা শেষ পর্যন্ত রাজি থাকবেন কিনা সেটিও একটি দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য যে, ওয়ান ইলেভেনের সময় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সৌদি আরবের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া এবং সৌদি আরবে যতদিন ইচ্ছে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মূহুর্তে ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে সৌদি আরবে পাঠায়নি। এ সময় কি কারণে বেগম খালেদা জিয়ার সৌদি আরবে যাওয়া হয়নি তা এখনো অজানা থাকলেও সৌদি আরবের সঙ্গে বেগম জিয়ার সখ্যতা অজানা নয়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে যে, বেগম জিয়া কারান্তরীন হওয়ার পর জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সৌদি আরব সরকারের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল তারা যেন এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সৌদি সরকার তখন তা কিছুই করেনি। নির্বাচনের পর বেগম খালেদা জিয়াকে যখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখন আবার নতুন করে সৌদি দূতাবাস এবং সৌদি সরকারের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
একাধিক সূত্র বলছে যে, সমঝোতার প্রশ্নে সবসময়ই শেষ সময়ে এসে বেগম খালেদা জিয়ার অনমনীয় অনড় অবস্থান ও একগুঁয়েমির কারণে সমঝোতা প্রস্তাবটা এগুচ্ছে না। এবার বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য যে সৌদির মধ্যস্থতায় সে সমঝোতা সেটারও ভবিষ্যত কী হবে, তা দেখার বিষয়।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!