ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

‘পুলিশ কেন ইয়াবা উদ্ধারে গেল না, নিশ্চয়ই পুলিশ ভয় পেয়েছে’!

‘ইয়াবা কিং’ সাইফুলের দুই ভাইকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ধরলো পুলিশ

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ইয়াবা নগরী হিসাবে খ্যাত টেকনাফের ‘ইয়াবা কিং’ সাইফুল করিমের দুই আপন ভাই ইয়াবা ও অস্ত্র নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের এই গ্রেপ্তার নিয়ে নানা মহলে পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, পুলিশ অন্যদের ধরলে তাদের নিয়ে ইয়াবা কিংবা অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে যায়। অথচ সর্বশীর্ষ একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর দুই আপন ভাইকে ধরে কেন ইয়াবা উদ্ধারে অভিযানে গেল না পুলিশ তা নিয়ে চলছে তীর্যক সমালোচনা। তেমনই একজনের ফেসবুক প্রতিক্রিয়া কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।

ওয়াহিদ রুবেল নামের একজন সংবাদকর্মী ও ছাত্রনেতা নিজের ফেসবুক ওয়ালে শনিবার বিকালে একটি স্ট্যাটাসে ওই প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। রাত ৮টার দিকে দেয়া ওই স্ট্যাটাসে ১৩১ জন লাইক দিয়ে এবং ১২ জন কমেন্ট করে ফিরতি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

মোহাম্মদ আসাস নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কোন এক অদৃশ্য কারনে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছেন টেকনাফ সীমান্তের অনেক বড় বড় ইয়াবা কারবারি বা গডফাদারেরা।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ৭৩ ইয়াবা কারবারির মধ্যে প্রথম ১০ জনের কেউই আগামীকাল শনিবারের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আতœসমর্পন করছেন না।
ঠিক কোন কারনে কেন তাহারা আতœসমর্পন করছেন না এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না কেউই!!,,,,,
৭৩ জন ইয়াবা গডফাদারদের এই তালিকায়
শীর্ষে অর্থ্যাৎ প্রথম দশজনের মধ্যে…
এক নম্বরে রয়েছেন টেকনাফের সাবেক সাংসদ এজাহার মিয়া কোম্পানীর পুত্র আবদুর রহমান বদির নাম!!!..

ওয়াহিদ রুবেলের দেয়া সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো

‘ইয়াবা কিং সাইফুলের দুই ভাই অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক হয়। আটকের পর তাদের নিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করতে যায়নি পুলিশ। কেন যায়নি হয়তো প্রশ্নটা অবান্তর। হয়তো অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারে গেলে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটতো, নয় তো ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার হতো। তাহলে গেল না কেন ? এ সুযোগ নিলো না কেন পুলিশ ? নিশ্চয় পুলিশ ভয় পেয়েছে। না হলে আটককৃতদের দ্রুত জেলে পাঠানো হলো কেন ? রাষ্ট্রের স্বার্থে অনেক কথা তো বলতে পারি না। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা যখন কথা বলার সুযোগ করে দেয়, তখন আমরা বুঝতে পারি এখানে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বাইরে ব্যাক্তিগত স্বার্থ কাজ করে। অনেক সময় আমরা জেনেছি বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে চারদিন বা পাঁচদিন বা তারও বেশি সময় পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী, বিকাশ এজেন্ট,খুচরা বিক্রেতা, মাদকসেবি। যাদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগও ছিলো না। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে । কিন্তু দেশের শীর্ষ ইয়াবা কারবারী সাইফুলের দুইভাই আটকের পর যখন জামাই আদরে জেলে পাঠানো হয় তবে তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এটি স্বাভাবিক। এখানে ব্যাক্তিগত স্বার্থ কাজ করেনি কে বলবে ?’
ওয়াহিদুর রহমান রুবেল,

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!