‘লম্বামানব’ জিন্নাত আলীর অসুস্থতা বাড়লো, দোকানে ঝুলছে তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাইক্ষ্যংছড়ি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

জটিল রোগকে সঙ্গী করে বড় হওয়া ৮ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার দীর্ঘমানব জিন্নাত আলীর অসুস্থতা আবারও বেড়ে গেছে। তাঁকে রোববার সকালে ভর্তি করা হয় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে।

হাসপাতালের পঞ্চমতলায় মেডিসিন বিভাগের মেঝেতে ঠাঁই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতাপূর্ণ সহায়তা পাওয়া জিন্নাত আলীর।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গেলে কথা হয় জিন্নাতের বাবা আমির হামজার সঙ্গে। তিনি বলেন, শনিবার থেকে ছেলের অসুস্থতা বেড়ে গেছে। শরীর ঝাকুনির পাশাপাশি জিন্নাত আলী কয়েকবার রক্ত বমি করেছেন।

তিনি জানান, অবস্থার অবনতি দেখে রোববার সকালে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- জিন্নাতের চিকিৎসা কক্সবাজারে নেই। তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে।

বোন গোলচেহের বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান বাবা আমির হামজা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসন গত ৯ এপ্রিল জিন্নাত আলীর জন্য গর্জনিয়া বাজারে একখণ্ড জমি, জমিতে তৈরি একটি পাকা দোকান ও মালামাল কেনার টাকা দেন। এর আগে চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন পাঁচ লাখ টাকার অনুদান। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জিন্নাত সরকারিভাবে একটি বসতবাড়িও পাবেন।

এদিকে জিন্নাত আলী ফের অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তাঁর আয়ের উৎস সেই দোকানে শনিবার থেকে তালা ঝুলছে। ক্রেতারা তাঁর দোকানে গিয়ে বারবার ফিরে আসছেন।

কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামের বর্গা কৃষক আমীর হামজার (৬০) এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত আলী তৃতীয়। অন্য সবার মতো স্বাভাবিক ছিল জিন্নাতের গড়ন। কিন্তু ওর বয়স যখন ১২ বছর, সে সময় থেকেই দ্রুত উচ্চতা বাড়তে থাকে। প্রতিবছর ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে আকৃতি বাড়তে থাকে। ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ ফুট উচ্চতা বেড়ে জিন্নাত এখন ৮ ফুট ২ ইঞ্চির এক দীর্ঘ মানব।

জিন্নাত আলীর বাবা আমীর হামজা ও বড় ভাই মো. ইলিয়াস আলী বলেন, জিন্নাতের এই উচ্চতার জন্য তাঁরা গর্বিত নন। বরং ছেলের দীর্ঘ উচ্চতায় ‘বিড়ম্বনা’ মনে করছেন বাবা।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন দীর্ঘ মানব জিন্নাত আলী। জিন্নাতকে সংসদ ভবনে নিয়ে যান কক্সবাজার-৩ (রামু-সদর) আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। জিন্নাতকে একনজর দেখতে সেদিন ভিড় করেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদরাও। সবাই জিন্নাতের সঙ্গে ছবিও তোলেন। এ সময় অসুস্থ জিন্নাত আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকায় গত বছরের ২৪ অক্টোবর জিন্নাত আলীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ জিন্নাত আলীর চিকিৎসা করেন।

তিনি বলেন, জিন্নাতের মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে। এছাড়া হরমোন সমস্যার কারণে তাঁর উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁকে আরও পরীক্ষা করাতে হবে।

তাঁর মতে, জিন্নাতের মতো সমস্যা নিয়ে কয়েকজন রোগী এসেছিল। তবে এর মতো দীর্ঘদেহী কেউই ছিল না। বাংলাদেশে জিন্নাতই সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘ উচ্চতার মানুষ।

কক্সবাজার ভিশন.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ
error: Content is protected !!